
মানবিক চিকিৎসক সুজাউদ্দৌলা রুবেল আর নেই : জানাজা সম্পন্ন


যিনি মৃত্যু কে তুচ্ছ মনে করে মানুষ কে বাঁচানোর প্রানপন চেষ্টায় যিনি ছিলেন সর্বদা ব্যস্ত বা সর্তক। তিনিই নিজের চিকিৎসার বেলায় ছিলেন অসচেতন।
করোনাকালীন চাঁদপুরের একমাত্র চিকিৎসক দম্পতির অন্যতম, চাঁদপুরের মানবিক চিকিৎসক হিসেবে খ্যাত, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল আর নেই।( ইন্না-লিল্লাহ…. রাজেউন)। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে চাঁদপুর শহরের ফেমাস স্পেশালাইজড (প্রা.) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরন করেন।
তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান।


জানাযায়, ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল ডায়াবেটিস, ওপেন হার্ট সার্জারী ছিলেন।

গত কয়েক দিন পূর্বে হোন্ডার চ্যালেঞ্জার পাইপের সাথে তাঁর পা লেগে আঘাত পান। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাসায় চিকিৎসা নেন। এক পর্যায়ে গতকাল দুপুরের দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে তাঁকে শহরের ফেমাস স্পেশালিস্ট হাসপাতালে আনা হয়। এখানেও তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে আইসিউতে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে তাঁর অবস্থার অবনতি ও মৃত্যুর খবর শুনে চাঁদপুর শহরে অবস্থানরত দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাসপাতালে ভীড় জমাতে শুরু করে।
শনিবার বাদ মাগরিব চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা শেষে মরদেহ বরিশাল নিজ বাড়িতে চিরস্থায়ী ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা করে।
এদিকে মরহুমের জানাজা পূর্বে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচ এম আহসান উল্লাহর পরিচালনায় শোকাহত পরিবার ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পৌর সভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ হারুনুর রশীদ, মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ সাইফুল ইসলাম সোহেল, জেলা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাসুদুন্নবী মাসুম। মরহুমের ছোট ভাই প্রফেসর রবিন।
উল্লেখ্য মরহুম ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বরিশালের সন্তান হলেও চাঁদপুর বাসীর কাছে তাঁর কর্মে ছিলেন চাঁদপুরের সন্তান হিসেবে। জানাজা তার প্রমাণ মিলেছে।
ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বরিশালের সন্তান হলেও সেবা ও আন্তরিকতা দিয়ে তিনি চাঁদপুরবাসী হয়ে উঠেছিলেন। অনেকেই মনে করতেন তিনি চাঁদপুরের সন্তান। ডা. রুবেল দীর্ঘদিন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ছিলেন। গত কয়েক মাস পূর্বে তিনি চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।

























