
চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


জনগনের ছিনতাই হওয়া অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও দেশের শাসক পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি দরকার বললেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের কবির হোসেন মিজি ।
চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জুন শনিবার বেলা ১২ টায় চাঁদপুর হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় পার্টির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম মিজানুর রহমান একজন অন্যতম নেতা ছিলেন। তার মতো নেতা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছেন। আমরা তাকে অনসরণ করে তার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজ গুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও প্রয়াত মিজানুর রহমান নেতার জন্য বিভিন্ন স্তরের মানুষ জাতীয় পার্টি করতে চায়। এর চেয়ে আমাদের সৌভাগ্য আর কি হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ ভালো নেই। দেশের মানুষের একটা গুন আছে, আর তা হলো সকল প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশের মানুষ হাসতে জানে। সে জন্য অনেকের অন্তরে কষ্ট থাকলেও তারা সেই কষ্টের মাঝেও ভালো থাকার অভিনয় করে যান।
বর্তমানে দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আইন-কানুন নিয়মমতো না থাকায় দেশের মানুষ তেমন ভালো নেই। দেশে শতকরা বিশ ভাগ লোক ভালো আছে। তারা হলো ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। অনেক ক্ষমতাসীন দুর্নীতিবাজরা দেশে দুর্নীতি করে বিদেশে সম্পদ গড়ছে। তিনি বলেন, যে দেশে গুণী মানুষের কদর হয়, সে দেশে গুণী লোক বাড়ে। আর যে দেশে দুর্নীতিবাজরা প্রশ্রয় পায়, সে দেশে দুর্নীতি বাজদের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষমতাসীন মানুষগুলো অন্যায় অপরাধ করেও দলীয় কারনে পার পেয়ে যাচ্ছে। আজ সাধারন জনগন কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তারা যে শোষণ থেকে মুক্তি চেয়ে জীবন দিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিলেন আজ তাদের সেই স্বাধীনতা নেই। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আগের মতো নেই। বাংলার শাসক পরিবর্তন করতে গেলে, মানুষ ঠিকমতো ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যায়নি। দেশের জনগনের মালিকানা আজ ছিনতাই হয়ে গেছে। সেই ছিনতাই হওয়া অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও দেশের শাসক পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি দরকার। তাহলে দেশে বেকারত্ব, চাকরি, খাদ্যের জন্য হাহাকার করতে হবে না। জি এম কাদের বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যে তার দল কাজ শুরু করেছে। তবে কোনো দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে জোট করবে কিনা, তা পরিস্থিতি ও সময় বলে দেবে।
পরবর্তী নির্বাচনে জনগণই তাদের শাসক ঠিক করবে। জনগণের দোয়া থাকলে আমাদের পরিবর্তন আসবেই। জনগণ আমাদের সুযোগ দিলে আমরা দেশের শাসক পরিবর্তন ঘটাবো।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন,জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী,প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব ঢাকা বিভাগ লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম জহির, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আক্তার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা ও চেয়ারম্যান শেরিফা কাদের, উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান উপদেষ্টা সাজ্জাদ রশিদ সুমন, সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম, সাবেক এমপি মাওলানা ইলিয়াস, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বেলাল হোসেন প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আলহাজ্ব এমরান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে ও প্রাদেশিক সম্পাদক খোরশেদ আলম খুশু, যুগ্ন আহবায়ক,প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর, অ্যাডভোকেট লতিফ শেখের যৌথ সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এমদাদ হোসেন মিয়া, পৌর জাতীয় পার্টির আহবায়ক শাহআলম মিজি, সদস্য সচিব ফেরদৌস খান, জেলা যুব সংহতির সদস্য সচিব হান্নান ঢালী, শহর ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব শরীফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন, জাকির হোসেন হিরু। সম্মেলনে চাঁদপুর জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।








