
গলা টিপে প্রাণ কেড়ে নেয়, পরে কেরসিন ঢেলে দেহ পুড়ে দেয় স্বামী


১০ মার্চ বিকেলে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে চড়থাপ্পড় দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় স্বামী রেজাউল করিম। চড়থাপ্পড় মারলে রেজাউলের নখের আঁচড়ে গৃহবধূ গালের নিচে দাগ পড়ে। রাত ৮ টায় রেজাউলের বাবা মা ঘুমিয়ে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রেজাউল ক্ষীপ্ত হয়ে ইয়াসমিনের গলায় দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলে শ্বাসরোধে মারা যান। সে বুজতে পারে তার স্ত্রী আর বেঁচে নেই।
সেই ভোর রাতে মৃত ইয়াসমিন আক্তারের সারা শরীরে ঘরে থাকা কেরোসিন তৈল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ে। পরে সে ফজরের নামাজ পড়তে চলে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিভানোর সময় রেজাউল ও তাদের সাথে আগুন নিভানোর ভান করতে থাকে। ওইসময় রেজাউল জ্ঞান হারানোর ভান ধরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় এবং তার স্ত্রীর জানাজা শেষে হাসপাতাল হতে সে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে।
এ বিষয়ে গৃহবধূর ভাই মোঃ রাকিব হোসেন ১২ মার্চ বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ আভিযানিক দল ২৮ মার্চ রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানাধীন ইপিজেড এলাকা থেকে রেজাউল করিম (৩০) কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার ডিংগাভাঙ্গা গ্রামের বেবি আক্তারের মেয়ে। ২০১৭ সালের শুরুতে রেজাউল করিম পেইজ নামক একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করতো। ঋণ নেওয়ার সুবাদে রেজাউল করিমের সাথে গৃহবধূর মা বেবী আক্তারের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে রেজাউল করিম ঋণের কিস্তির টাকা নিতে বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। সেখান থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে রেজাউল করিম মালদ্বীপ পাড়ি দেয়।
গৃহবধূর মা বেবী আক্তার জানান, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রেজাউল মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরে আসে এবং অনেকটা বাধ্য হয়ে পরিবারের অমতে গত ১০ জানুয়ারি ইয়াসমিন আক্তারের সাথে রেজাউল করিম বিবাহ হয়।
মেজর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যতাকে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। পপুলার বিডিনিউজ, বরুড়া, কুমিল্লা



























