
‘সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সুযোগ তৈরি করেছে’


পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে অনেক সুযোগ সুবিধা তৈরি করেছে। আমাদের দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। এটি একটি বিরাট অর্জন। কোনো মুসলিম দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নারীরা এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী সংখ্যা বেশি। এর মূল কারণ হচ্ছে শিশু বৃত্তি, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই এবং মেয়েদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেওয়া। বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা। এসব কারণে বিদ্যালয়ের ভর্তির হার বেড়েছে। একই সঙ্গে মানুষের আয়ও বেড়েছে। সরকারের বিশেষ আয়োজনে এটি সম্ভব হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইণ্ডাস্ট্রির আয়োজনে ও পৌরসভার মেয়রের সার্বিক সহযোগিতায় উদ্যমী নারী এসএমই মেলার সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন এই সরকারের আমলে কর্মক্ষম নারী অর্থাৎ ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত নারীরা আমাদের দেশে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মে নিয়োজিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বেশি। এই সংখ্যায় ভারতে আমাদের চাইতে কম, পাকিস্তানে খুবই কম। এই যে নারীদের কর্মে নিয়োজিত করা, এটি সরকারের পরিকল্পনার মাধ্যমে হয়েছে। আমরা এটাকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে চাচ্ছি। প্রশাসনেও ২০ শতাংশ নারীরা রয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পীকার নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী ও অন্যান্য পদেও নারীরা রয়েছেন। সরকারের যে বাজেট হয়, সেখানে নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বর্তমানে ৩৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করেছিলেন। নারীদের জন্য তিনি সবক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার মানে হচ্ছে একজন শিশু যেন সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার এনজিওগুলোকে কাজ করার অনেক সুযোগ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের নেতৃত্বে থাকা এনজিওগুলোকে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা এসএমই ফাউন্ডেশনের কথা শুনেছেন। সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকগুলো থেকে দশমিক ৫ শতাংশ সুদে নারী উদ্যোক্তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে জামানত বিহীন। এর জন্য সরকার ৩শ’ কোটি টাকা রেখেছেন। নিজে উদ্যোগ নিয়ে বিনিয়োগ করে ব্যবসা চালু করাই হচ্ছে উদ্যোক্তা। আমাদের প্রচুর পরিমাণ উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষায় মাধ্যমিক পর্যায়ে নারীরা এগিয়ে এসেছে। উচ্চ শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের এখন বেশি প্রয়োজন শিশু ডে কেয়ার সেন্টার তৈরি করা। কারণ বেশিরভাগ পরিবারে এখন পিতা-মাতা উভয় চাকরি করেন। হস্তশিল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। এটার জন্য আপনারা ব্যাংকগুলো থেকে বিশেষ ঋণ পেতে পারেন। পর্যটন ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা এবং এই বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য উৎসাহ দেওয়া দরকার। প্রথমেই শিল্পখাতে যাওয়া ঝুঁকি আছে। তাই ছোট ছোট কাজগুলোতে এগিয়ে আসতে পারেন।
সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রফিউদ্দিন আহমেদ।
E/N

























