
রুটি গরম করতে গিয়ে পুড়ে গেলো প্রতিবন্ধী তরুণী


জমজ দুই বোন। দুইজনেই প্রতিবন্ধী। রুটি গরম করতে গিয়ে বড় বোন মেহেরিন কাজী পুড়ে গেলেন পরপারে। সোমবার সকাল সাতটায় এমন ঘটনাটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাসা কাজী বাড়ীতে ঘটে।
পা-খোঁড়া প্রতিবন্ধী মেহেরিন কাজী। দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেহেরিন কাজীর বাবা সাত বছর আগেই মারা যান। দুই প্রতিবন্ধী মেহেরিন ও তাহরীন এবং ছোট মেয়ে তাছমিয়াকে নিয়ে সংগ্রামী জীবনযুদ্ধ মা কামরুন নাহারের।
প্রতিবেশী কাজী সুলতান আহম্মেদ ও অন্যান্যরা পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, সোমবার সকালে পারিবারিক কাজের তাগিদে বেরিয়ে পড়েন তিনি। ছোট মেয়ে তাছমিয়া প্রাইভেট পড়তে চলে যায়। মায়ের হাতে বানানো রুটি গরম করতে রান্নাঘরে যায় মেহেরিন। অসাবধানতার বশত হয়ে চুলার আগুন মেহেরিনের শরীরের জামায় লেগে যায়। তার চিৎকারেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘরে চৌকিতে বেড়ে উঠা আরেক প্রতিবন্ধি বোন তাহরীন কাজী। রান্না ঘরের পাশের একটি বারান্দা সে। তারও কিছু করার ছিল না।


শরীরের ৮০ ভাগ যখন পুড়ে গেল তখন প্রতিবেশিরা রান্নাঘরের আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন।
তারপর চাঁদপুর সদর হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে বাবুরহাটে মারা যান প্রতিবন্ধি মেহেরিন। সোমবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মেহেরিনের মা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। সন্তানকে হারিয়ে তিনি বার বার জ্ঞান হারিয়ে পড়েন। পরিবারের একটু অসাবধানতায় ঝরে গেল মেহেরিনের প্রাণ। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া বইছে।


























