কোভিড – ১৯ প্রাদুর্ভাবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে করণীয় 

Default User
মোহাম্মদ আরিফ ইমাম 
আপডেটঃ অক্টোবর ৫, ২০২১ | ৩:৪৬
Link Copied Successfully!
কোভিড – ১৯ অতিমারির প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে বন্ধ ছিলো শিক্ষাঙ্গন। সংক্রমণ সন্তোষজনক হারে কমে আসার প্রেক্ষাপটে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে খুলেছে শিক্ষাঙ্গন। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেক শিক্ষার্থী আসছেনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
সরকারি তথ্য বলছে, সরকারি প্রাথমিকে ৮০ শতাংশ ও মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। তবে বাস্তবে উপস্থিতির হার এর চেয়ে কম বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে।
দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারেই দারিদ্র বেড়েছে। অনেকেই শিশুশ্রমসহ অন্যান্য কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিয়েরপিঁড়িতে বসেছে।  বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে অনেকে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার সবচেয়ে বেশি কিন্ডারগার্টেন ও স্বঅর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে দেশের ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেনে ৮০ লাখ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও বর্তমানে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। উপস্থিতির হার মাত্র ৩০ শতাংশ বলে জানা গেছে কিন্ডারগার্টেনের বিভিন্ন এসোসিয়েশন তথ্যসূত্র। শিক্ষার্থী সংকটে অনেক কিন্ডারগার্টেন এখনো খুলছেনা।
ঝরে পড়ার উদাহরণ রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের সরকারি তথ্যে। প্রতি বছর সরকারি – বেসরকারি শিক্ষার্থীর সংখ্যা হিসেব করেই প্রাক – প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যের বই ছাপানো হয়।চলতি শিক্ষাবর্ষে সরকার ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ পাঠ্যবই ছেপে বিতরণ করেছে। আগামী ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ কোটি ১৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেই হিসেবে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৭৭ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই কমছে। অথচ, স্বাভাবিক সময়ে সাধারণত প্রতি বছরই শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ে। শিক্ষার্থী বাড়ার কারণে বছরে গড়ে আড়াই শতাংশ পাঠ্যবই বাড়ে। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এর উল্টোচিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিলো ২০.৫ শতাংশ। তবে করোনাকালে এই হার বেড়ে হয়েছে  ৪২ শতাংশ। গত ২ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। দারিদ্র্যের মুখোমুখি ৫৬ শতাংশ পরিবার দাবি করেছে,  করোনার সময়ে তাদের আয় কমেছে। ধার করে, সঞ্চয় ভেঙে এবং খাদ্য ব্যয় কমিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করেছে তারা।যেখানে ধার করে সংসার চালাতে হছে, সেখানে দরিদ্র পরিবারগুলো শিক্ষার ব্যাপারটি মাথায়ই রাখতে পারছেনা। এসব দরিদ্র পরিবারের অনেক সন্তান শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে যারা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর নাও ফিরতে পারে।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে করণীয়ঃ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আভ্যন্তরীণ ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার অন্বেষণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার কারণসমূহের একটি প্রতিবেদন উপজেলা / জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেই বয়সী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা বেশি তাদেরকে বিশেষ কাউন্সিলিং প্রোগ্রামের আওতায় আনা জরুরি। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়াও সরকারের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা যেমন,  বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে যেনো দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচকে কোনোভাবেই বোঝা মনে না করে।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভিভাবক সমাবেশ করে শিক্ষা বিষয়ক কাউন্সিলিং জোরদার করতে হবে। শ্রেণিকার্যক্রমে শিক্ষকদের আরো আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেহেতু দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে শ্রেণীকার্যক্রমের বাইরে তাই কঠোরতা পরিহার করে আনন্দদায়ক শিখন – শেখানো পদ্ধতি অনুসৃত হওয়া বাঞ্ছনীয়। পাঠের বিষয়বস্তু সহজবোধ্য ও উপভোগ্য করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তা নিরস ও একঘেয়ে অনুভূত না হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধূলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের উপর জোর দিতে হবে। যেসকল শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে পারছেনা তাদেরকে বৃত্তিমূলক কারিগরী শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হোম ভিজিট কার্যকর করতে হবে। মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিকের অনুরুপ সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি, শিক্ষাব্যবস্থা যাতে ভীতিকর না হয়ে আগ্রহের বিষয় হয় সেদিকে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
মোহাম্মদ আরিফ ইমাম 
প্রভাষক (ইংরেজি),
বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাজিল ( ডিগ্রি)  মাদরাসা, হাজীগঞ্জ,  চাঁদপুর।
ও
দপ্তর সম্পাদক,
বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ( বিএমজিটিএ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচনে তৃতীয় চাঁদপুরের হোসনে আরা মতলব পৌরসভার সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা