
জীবন বাঁচাতে মাস্ক ও ফল বিক্রিতে এখন হাজীগঞ্জ বই ব্যবসায়ীরা


কেউ ফল বিক্রেতা কেউবা মাস্ক। কেউ কেউ লোকশান গুনতে গিয়ে দোকান বন্ধ করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। করোনায় এমন চিত্র এখন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের। মার্কেট খুলেছে। স্কুল কলেজ খুলেছে কিন্তু ভাগ্য খুলেনি বই বিক্রয় মালিকদের।
হাজীগঞ্জ বাজারের বই দোকান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানান, হাজীগঞ্জ বাজারে ১১টি বড় এবং ২৬ টি ছোট বইয়ের দোকান রয়েছে। তার মধ্যে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে আবার কিছু দোকানে মাস্ক ও ফল বিক্রি করছে।
এখন বইয়ের সাথে মাস্ক সাজিয়ে দোকান করছে তারা । আর মাস্ক বিক্রিতে ঝুকছে বই বিক্রেতারা। আবার কিছু লাইব্রেরির সামনে ফলের ফসরা বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ মার্কেট, রজনী গন্ধা মার্কেট, মেইন রোড,ষ্টেশন রোডের এই বইয়ের দোকান গুলোর সামনে কোন ক্রেতা নেই। অলস বসে কেউ মোবাইল দেখছে কেউ বা ঝিমুচ্ছে। আবার কারো দোকানের সামনে সাজানো বাহারি মাস্ক কিনতে কিছু ভীড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সবুজ লাইব্রেরি, আজাদ লাইব্রেরি, মুসলীম লাইব্রেরিসহ কয়েকটি লাইব্রেরিতে বইয়ের পাশাপাশি মাস্ক বিক্রি করছে। মেইন রোডে মাসুদ লাইব্রেরির সামনে ফলের ফরশা সাজিয়ে ফল বিক্রি করছে লাইব্রেরি মালিক।


এইচএসসি শিক্ষার্থী সানজিদা ও সাবিকুন নাহার নাসিত বলেন, সামনে আর অল্প সময় তাই এখন তেমন বই কেনা লাগেনা।

সবুজ লাইব্রেরীর মালিক মশিউর জানান, সারা দিনে ৩/৪ শ টাকা বিক্রি হয়। আবার কোনো দিন বই বিক্রিও হয় না। অতি কস্টে আছি তাই এখন মাস্ক বিক্রি করছি।
ইকরা লাইব্রেরির মালিক শুকুর আলম জানান, কোন বেচা কেনা নাই। মাঝে মাঝে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ছলে যাই। পরিবার পরিজন নিয়ে কস্টে দিন কাটছে।
হাজীগঞ্জ বাজার পস্তুক বিক্রয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রহমান পপুলার বিডিনিউজকে জানান, আমরা অনেক কস্টে আছি। যেখানে প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার টাকা বিক্রি হতো সেখানে তিন হাজার চার হাজার টাকা বিক্রি তাই এখন মাস্ক বিক্রি করছি।
জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি মির্জা লাইব্রেরির স্বাত্তাধীকারি মির্জা গিয়াস উদ্দিন জানান, অনেক টাকা ঋন হয়ে গেছে। লাখ টাকার বিক্রি এখন হাজারে আসছে। অনেকে অন্য পেশায় ছলে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে প্রনোদনা চাই।
E/N



























