
গাছ কেটে অর্ধশতাধিক শামুকখোল ছানা হত্যা


সবুজ ও নান্দনিক রাজশাহী মহানগরীতে হাজারও পাখির বসবাস। তবে নগরায়নের সঙ্গে একরকম যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে পাখিদের। সুযোগ পেলেই পাখি হত্যা করা হচ্ছে। গাছ কাটার সঙ্গে চলে পাখি নিধন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে। গাছ কেটে ফেলায় প্রাণ হারাল অর্ধশতাধিক শামুকখোল পাখির ছানা।


রামেক হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন থেকে এই পাখিগুলো বসবাস করে আসছিল। শনিবার বিকালে পাখির আবাসস্থল গাছ কাটা হলে মাটিতে আছড়ে পড়ে শাবকসহ দেড় শতাধিক পাখি। এ সময় হুমড়ি খেয়ে পড়ে পাখিখেকোরা। বড় পাখিগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় অনেকে। হাসপাতালের নির্মাণ শ্রমিকরাও মহোৎসবে মেতে উঠে।

জবাই করা হয় ২০ থেকে ২৫টি শামুকখোল। এ সময় গাছ থেকে পড়ে অর্ধশতাধিক শামুকখোল শাবক মারা যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও পাখিপ্রেমীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকরা ড্রেন নির্মাণ কাজ করছিলেন। সঙ্গে গাছও কাটা হচ্ছিল। এক সময় গাছটি পড়ে গেলে পাখিগুলো আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে শাবক পাখিগুলো মারা যায়। অনেকে বড় পাখিগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকরাও কিছু পাখি জবাই করে। ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। একই সঙ্গে যাদের অবহেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে তাদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালের কয়েকটি শুকনা গাছ কাটতে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদাররা কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিয়েই গাছ কেটেছেন। ফলে পাখিগুলো আছড়ে পড়ে মারা গেছে। হাসপাতালের পাখি হত্যার কোনো সুযোগ নেই। যারা পাখি হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N




























