
মা


সখীপুর এলাকার শাল-গজারি বনের ভেতর থেকে এক মহিলার কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। রাত ৮টার দিকে কান্নার শব্দ শুনে সখীপুর গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যকে কান্নার শব্দের কথা জানায় স্থানীয় লোকজন। ওয়ার্ড সদস্য জানান চেয়ারম্যানকে। চেয়ারম্যানসহ বনের ভেতর ঢুকে মহিলার সন্ধান পাওয়া গেল। তাঁর বয়স পঞ্চাশের মতো। কিভাবে তিনি এই বনে এলেন, এখানে একা একা বসে কাঁদছেন, তাঁর মুখ থেকে ঘটনা শুনলেন চেয়ারম্যান ও অন্য লোকজন। মহিলার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গাজীপুরের সালনার একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে তাঁর ছেলে, দুই মেয়ে ও মেয়ের জামাইরা কাজ করে। ওই এলাকায়ই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। ছেলেমেয়ে ও জামাতারা কাজে চলে যেত আর তাদের সংসার সামলাতেন এই মা। রান্নাবান্না করে খাওয়াতেন সবাইকে। কয়েক দিন ধরে তাঁর শরীর খারাপ। জ্বর আর সর্দি-কাশি। এ কথা শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন ভাবল মহিলার করোনা হয়েছে। এলাকা থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো। তারপর একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে নালিতাবাড়ীর দিকে রওনা দিল পরিবারটি।
এই ঘটনা ঘটেছিল গত বছর এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে। নালিতাবাড়ী যাওয়ার পথে মহিলার ছেলেমেয়ে ও জামাতারা তাঁকে ওই শাল-গজারি বনে নামিয়ে দিয়ে বলল, ‘মা, তুমি এখানে থাকো। কাল সকালে তোমাকে এসে আমরা নিয়ে যাব।’ ছেলেমেয়েরাও সন্দেহ করেছিল মায়ের করোনা। সেই সন্দেহে বনে ফেলে গেল মাকে। তাঁর হদিস পেয়ে রাত ১২টার দিকে ইউএনওকে জানানো হলো। তিনি চিকিৎসার জন্য মহিলাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। ব্যবস্থা করতে করতে রাত দেড়টা বেজে গেল। করোনার লক্ষণ থাকায় মায়ের সঙ্গে এই আচরণ করল ছেলেমেয়েরা। হয়তো তাঁর কান্নার শব্দ মানুষের কানে না পৌঁছলে বনের শিয়ালরা রাতের বেলা তাঁকে খেয়ে ফেলত। পরীক্ষা করার পর জানা গিয়েছিল মহিলা করোনায় আক্রান্ত নন। মাকে ফেলে সন্তানরা পালিয়ে গেল কিন্তু তার পাশে দাঁড়ালেন আমাদের দরদি স্বাস্থ্যকর্মীরা, এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ হৃদয়বান মানুষেরা।


H/N




























