
চাঁদপুর পৌরসভায় কম্পিউটার, সেলাই মেশিন ও ফুড কার্ট বিতরণ
সুবিধাভোগীদের সফলতাই ইউএনডিপির কাছে আরও সহযোগিতা পাওয়ার পথ তৈরি করবে: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক


চাঁদপুর পৌরসভায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়বৃদ্ধি, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন ও ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলএমএসইউপিপি প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের আয়োজনটি অত্যন্ত সুন্দর একটি আয়োজন। চাঁদপুর পৌরসভাকে এ কার্যক্রমের জন্য বেছে নেওয়ায় ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানাই। ইউএনডিপির কম্পিউটার, ফুড কার্ট ও সেলাই মেশিন বিতরণের এই কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে—এটাই প্রত্যাশা।
তিনি সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউএনডিপিকে দেখাতে পারবেন যে, আপনারা সফল হয়েছেন। আপনারা যদি এগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সফল হতে পারেন, তাহলে আমরাও ইউএনডিপির কাছে গিয়ে আরও বেশি সহযোগিতা এবং বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারব। এর মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে।
ফুড কার্ট ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এত সুন্দর ফুড কার্ট তৈরি করে দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই। যারা এগুলো ব্যবহার করবেন, তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। ফুড কার্টের আশপাশে যেন ময়লা-আবর্জনা জমে না থাকে। এ জন্য ব্যাগ বা ঝুড়ি ব্যবহার করতে হবে, যাতে সারাদিনের জমা ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ফেলে দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, আপনারা এসব কাজ সুন্দরভাবে করলে এবং ইউএনডিপি কার্যক্রমগুলো তদারকি করলে আমরাও ইউএনডিপির কাছে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারব। এর মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে সাধারণত অনেকেই মনে করেন, আগের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু ২০১৮ সালের প্রোগ্রাম ২০২৪ সালে রিভিউ করা হয়েছে। যারা তখন ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও এখানে রয়েছেন। অর্থাৎ সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়নি।
তিনি বলেন, এই সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাস রাখতে হবে। কারণ এই সরকার সকল জনগণকে নিয়ে সমাজের পরিবর্তন করতে চায়। এটি তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। যারা স্বচ্ছতার সঙ্গে সুবিধা পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—এই সরকার একটি জনগণের সরকার। যারা পাওয়ার যোগ্য, সরকার তাদের নিয়েই কাজ করবে। কারও পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কী ছিল, তা না দেখে যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে জনগণের জন্য কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন।
চাঁদপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন. জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সদস্য সচিব মিঃ সুজিত বড়ুয়া,চাঁদপুর পীেরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আজম শরীফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ইউএনডিপির প্রকল্প এনালিস্ট এস. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
উপকারভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঈশিতা।
অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তার লক্ষ্যে তিন ধরনের সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৯ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও কম্পিউটার প্রদান, ৪৬ জনকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান এবং ৬৪টি ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফুড কার্টের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এলএমএসইউপিপি প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর পৌরসভার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।




























