
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে ‘প্রেমের শপথ’: ছবি ভাইরাল, মিশ্র প্রতিক্রিয়া নেটিজেনদের


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের সামনে এক তরুণ-তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও জিন্স পরা এক যুবক এবং কালো বোরকা-নিকাব পরা এক তরুণী মসজিদের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে হাত ধরে আছেন। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে এটি “প্রেমের শপথ”।
ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল পোস্টের কমেন্ট সেকশনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


সমালোচনা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ:
অনেকেই মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন আচরণকে “অযৌক্তিক” ও “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” বলে উল্লেখ করেছেন।
‘মসজিদ ইবাদতের জায়গা। এখানে প্রেমের শপথ? এটা কোনোভাবেই কাম্য না।’
“স্থান-কাল-পাত্র বুঝা উচিত। মসজিদের সম্মান রাখতে হবে।”
“এটা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বেমান।”
আবার কেউ কেউ বলছেন, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এত হৈচৈ করার কিছু নেই।
“তারা তো খারাপ কিছু করছে না। হাত ধরা অপরাধ না।”
“মসজিদের বাইরে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। এত বড় করে দেখার কিছু নেই।”
অনেকে আবার বলছেন সম্পর্ক থাকা দোষের না, তবে স্থান নির্বাচন ভুল হয়েছে।
“ভালোবাসা সুন্দর। কিন্তু মসজিদের সামনে না করে পার্কে বা অন্য কোথাও করলে ভালো হতো।”
“আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা মাথায় রাখা দরকার।”
কতটা যৌক্তিক?
ইসলামি স্কলার ও স্থানীয় আলেমরা বলছেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে শুধু ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি আলোচনার জন্যই আসা উচিত। মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রয়োজনীয় কথা, হাসি-ঠাট্টা এমনকি দুনিয়াবি আলাপও নিরুৎসাহিত করা হয়। সেখানে ছবি তোলা বা “প্রেমের শপথ” এর মতো কাজ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত।
আবার সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক এখন স্বাভাবিক বিষয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করাও সমাজের একটি বড় মূল্যবোধ।
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, “আমরা সবাইকে অনুরোধ করব মসজিদের পবিত্রতা বজায় রাখতে। এখানে এসে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা দৃষ্টিকটু কাজ না করে।”
ছবিতে থাকা দুজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একটি ছবি ঘিরে হাজীগঞ্জে এখন আলোচনার ঝড়। একদল বলছেন এটি ব্যক্তিগত ব্যাপার, আরেকদল বলছেন ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। নেটিজেনদের বড় অংশই মনে করছেন, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আরও অন্য স্থান বেছে নেওয়া যেত।

























