
সাত দশক পেরিয়েও জোটেনি বয়স্ক ভাতা, দীর্ঘশ্বাসে কাটছে রশিদ প্রধানের শেষ বয়স


যে হাতে একসময় কঠোর পরিশ্রমে সংসারের হাল ধরেছিলেন, আজ সেই হাত কাঁপে বয়সের ভারে। শরীরে আর আগের মতো শক্তি নেই, চোখেও ঝাপসা দেখেন। জীবনের ৭০টি বছর পার করেও সরকারের বয়স্ক ভাতার সুবিধা পাননি মতলব উত্তর উপজেলার বড় মরাধন গ্রামের বাসিন্দা মো. রশিদ প্রধান। শেষ বয়সে একটু সরকারি সহায়তার আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করলেও সেই অপেক্ষার এখনও অবসান হয়নি।
দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক রশিদ প্রধান এখন প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। বয়সের কারণে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেই কাটছে তাঁর দিন। এমন অবস্থায় বয়স্ক ভাতার সামান্য অর্থও তাঁর কাছে হতে পারত ওষুধ কেনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কিংবা কিছুটা স্বস্তিতে বেঁচে থাকার অবলম্বন।
আক্ষেপের সুরে রশিদ প্রধান বলেন, “আমার বয়স ৭০ বছর। অনেকের নাম ভাতার তালিকায় উঠেছে, কিন্তু আমি এখনও পাইনি। কতবার যে খোঁজ নিয়েছি, তার হিসাব নেই। শেষ বয়সে সরকারের এই সামান্য সাহায্যটুকু যদি পেতাম, তাহলে খুব উপকার হতো।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় এখনও অনেক প্রকৃত অসহায় ও যোগ্য প্রবীণ বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক, যাতে রশিদ প্রধানের মতো প্রবীণদের জীবনের শেষ সময়ে আর কষ্টে দিন কাটাতে না হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন বলেন, “বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য পুরুষের ন্যূনতম বয়স ৬৫ বছর হতে হবে। বড় মরাধন গ্রামের মো. রশিদ প্রধান অনলাইনে আবেদন করে থাকলে, প্রথমে পৌরসভার যাচাই-বাছাই কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”


এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বৃদ্ধ রশিদ প্রধান যদি অনলাইনে বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তিনি যোগ্য বিবেচিত হলে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করা হবে।”


























