
‘একটা বসতঘর আর কর্মসংস্থান চাই’- জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী চাঁদপুরের মামুনের আকুতি


জন্ম থেকেই হাঁটতে পারেন না চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মামুনুর রশিদ। শরীর বাঁকা, হাত-পা নিশক্তি। হুইলচেয়ারই তার একমাত্র ভরসা। তার চেয়েও বড় কষ্ট – স্ত্রী আর দুই সন্তানও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। ৩৮ বছরের মামুনের একটাই স্বপ্ন, মাথা গোঁজার একটা বসতঘর আর নিজের কর্মসংস্থান।
জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ। বাবা আবু তাহের। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।
মামুনের সংসারে ৪ জন সদস্য। স্ত্রী রিমা আক্তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে তামিম হাছান ৯ বছর বয়সী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে তাহসিন আহমেদ ৬ বছর বয়সী, সে বাক-প্রতিবন্ধী। মা হালিমা খাতুনও বৃদ্ধ।


জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা। মামুন ও তার স্ত্রী দুজনেই ভাতা পান। এতেই কোনোমতে সংসার চলে। মাঝে মাঝে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চলে খাওয়া-পরার খরচ।
১৯ দিন বয়সে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মামুনের শরীর আস্তে আস্তে বাঁকা হয়ে যায়। এখন বসতে পারেন না, দাঁড়াতে পারেন না। হাত-পা দুটোই অচল। তারপরও স্বপ্ন দেখেন স্বাবলম্বী হওয়ার।
মামুন বলেন, ‘আমার একটা পাকা ঘর নাই। ভাড়া ঘরে থাকি। দুইটা ছেলে, বউ – কেউই কাজ করতে পারে না। আমি চাই একটা কর্মসংস্থান। একটা হুইলচেয়ার চালিত ভ্যান বা ছোট দোকান পেলে নিজে কিছু করতে পারতাম। আর একবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে চাই। উনার কাছে আমার কষ্টের কথা বলতে চাই।’
মামুনের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘পোলাডা জন্মের পর থেকেই কষ্ট করতাছে। বউডাও অসুস্থ। নাতিগো ভবিষ্যৎ নিয়া ঘুমাইতে পারি না। কেউ যদি একটু সাহায্য করতো…’
এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ‘মামুন খুবই অসহায়। চারজনের পরিবারে দুইজন প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আয়ের কোনো পথ নেই। মামুনের জন্য একটা বসতঘর ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পরিবারটি বাঁচার আলো দেখবে।’
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, মামুনের পরিবারে তিনটি প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া আছে। আগামীতে তাকে কর্মসংস্থান ও একটি বসতঘর দেয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
মামুনের সাথে যোগাযোগ: 01710-459803

















