
চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে কাল ঈদ


মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলার অর্ধশত গ্রামে আগামীকাল বুধবার (১০ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে ওই সব গ্রামের মুসল্লিরা নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে (০৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদ্রা দারুযযফর দরবার শরীফের পীর শাইখ আরীফ চৌধুরী সাদ্রাভী। তিনি জানান, আগামী কাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় সাদ্রা ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তিনি দাবী করেন, বাংলাদেশে ১৭ ঘন্টা বয়সী চাঁদ যেহেতু স্বাভাবিকভাবে দৃশ্যমান হয় কাজেই বাংলাদেশের আকাশে ১৮ ঘন্টা বয়সের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি কোন কারণে আজ চাঁদ দেখা না যায় তবে আগামীকালের চাঁদ দেখে মনে হবে ২ দিন বয়সী চাঁদ । কারণ চাদের বয়স হবে তখন ৪২ ঘন্টা।
মূলত বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। একই দরবার শরীফে পৃথকভাবে আরেকটি জামাত হবে। সেখানে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন পীর মুফতি আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।


এছাড়া চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, শমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, শাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুরের মুসল্লিরা এক দিন আগে ঈদ পালন করবেন। এ ছাড়া মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাঁচানী, দেওয়ানকান্দি পাঁচানী, সাতানী, লতুরদী, মোহাম্মদপুর, মোহনপুর, এখলাশপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করেন মুসল্লিরা।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত ভিত্তিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, হানাফী, মালেকি, আম্বলি মাযহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথিবীর এক প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে সর্ব প্রান্তে তার উপর আমল করতে হয়। বৃহস্পতিবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সকল মুসলিম উম্মাহ ঈদ উদযাপন করবে। তারই প্রেক্ষিতে সাদ্রা দরবার শরীফের সকল অনুসারীগণ একত্রে ঈদ উদযাপন করবেন।
১৯২৮ সাল থেকে হাজীগঞ্জের রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও পবিত্র ঈদ-উল-আযহা পালন উদযাপন শুরু করেন। এরপর থেকে চাঁদপুরের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ রোজা ও আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।


























