পর্যটন সম্ভাবনাময় চাঁদপুর শহরকে করা হচ্ছে নান্দনিক 

Reporter
মাজহারুল ইসলাম অনিক, চাঁদপুর
আপডেটঃ নভেম্বর ২১, ২০২৩ | ১১:৪৫
Link Copied Successfully!

প্রাচীন বন্দর নগরী ও তিন নদীর মোহনায় গড়ে উঠা চাঁদপুর জেলা সদরের পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। প্রথম শ্রেণীর পর্যটন সম্ভাবনাময় এই পৌরসভাকে নান্দনিক করে গড়ে তুলতে বর্তমান পৌর পরিষদ উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে মেয়র মো. জিল্লুর রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান পরিষদ গত ৩ বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছেন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত পৌরসভার ১০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। নির্বাচনী মেয়াদের মধ্যেই সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে শহরকে নান্দনিক করে গড়ে তোলা হবে। সড়ক, ড্রেন, ওয়াক ওয়ে, হরিজনদের বাসস্থান, পানির সংকট দূরীকরণসহ ইতোমধ্যে পরিকল্পনার বেশ কিছু কাজ দৃশ্যমান।

চাঁদপুর পৌরসভার প্রকৌশল শাখাসহ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, পৌরসভার বর্তমান মেয়র ২০২০ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের সাড়ে ৭ কোটি টাকা বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছেন। বর্তমানে বেতন হালনাগাদ। বিদ্যুতের ৫ কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ করে ব্যয় সংকোচন করেছেন। সবচাইতে বেশী বেহাল ছিল সড়ক ও ড্রেনেজ সমস্যা। নিজস্ব অর্থয়ানে ইতোমধ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো উন্নয়ন কাজ চলমান।

শহর ঘুরে দেখাগেছে, গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়াম রোড, মিশন রোড, কালবাড়ী শপথ চত্বর, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, কুমিল্লা সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, হাজী মহসীন রোড, জেএম সেনগুপ্ত রোডের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, নিউ ট্রাক রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান। একই সাথে সড়কের দুই পাশে ওয়াক ওয়েসহ সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ করা হচ্ছে এই প্রথম। খুবই সাহসীকতার সাথে সড়ক প্রশস্ত করণের কাজে প্রশংসিত হয়েছেন মেয়র।

বিজ্ঞাপন

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, মেয়র খুবই সাহসীকতার সাথে শহরের অধিকাংশ সরু সড়কগুলো প্রশস্ত করছেন। যানজট নিরসনে এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিগত কোন মেয়রই সড়ক প্রশস্ত করণের উদ্যোগ নিতে পারেননি।

শহরের ট্রাক রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম জানান, রহমতপুর আবাসিক এলাকা, পালপাড়া, নাজির পাড়া ও ট্রাক রোডে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হত। ড্রেনেজ নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্ত করণসহ জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমান মেয়রের পরিকল্পিতকাজগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন হলে সত্যিকারে নান্দনিক শহর হবে চাঁদপুর পৌরসভা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ দৃশ্যমান।

চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এইচ.এম শামসুদ্দোহা জানান, পৌরসভার যেসব এলাকায় উন্নয়ন হয়নি এবং পিছিয়ে পড়া জনবসতী এলাকাগুলো বর্তমান মেয়র ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫ কিলোমিটার ড্রেন। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (হরিজন) জন্য নির্মাণ হয়েছে দুটি ৫ তলা ভবন। পানির সংকট নিরসনে উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৪ কোটি টাকা। ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকেল্পর মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো জানান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অর্থয়ানে শহরের অন্ধকার এলাকাগুলো এখন রাতের বেলায় আলোকিত। ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০টি সৌর বিদ্যুৎ বাতি লাগানো হয়েছে। বিশ^ ব্যাংকের অর্থয়ানে ইচুলী ও ঘোড়ামারা আশ্রয়ন কেন্দ্রে নির্মাণ হয়েছে রাস্তা ও ড্রেন। এতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা।

পৌরসভার নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাল্য বিয়ে রোধে ব্যাপক কাজ হয়েছে পৌরসভায়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প (এলআইইউপিসি) ইউএনডিপি কাজ করছেন। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ এবং কিশোরীদের শিক্ষা সহায়তা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে সংস্থাটি।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের চরম সংকটময় অবস্থা কোবিডের মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপর বিশ^ময় সংকট। পৌরসভার অনেক বছর আগ থেকেই সমস্যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া, গ্র্যাচুয়েটির টাকা বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, ঠিকাদারদের বিল বকেয়া। পৌরসভার অভ্যন্তরীন এসব সমস্যা সমাধান করে একটি অবস্থানে আনতে প্রায় ৩ বছর সময় পার হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভার অপচয় রোধ করে আয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের রাজস্ব আয় পূর্বেছিল ২৫ কোটি টাকা। এখন সেটি বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অবশ্যই পৌরবাসী ভালভাবে দেখবে। আমরাও এটাকে সাফল্য মনে করছি।

মেয়র বলেন, আমরা এখন যে কাজটি করছি সেটি হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। আমাদের যে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা তৈরী করা অর্থাৎ নান্দিনিক শহর গড়ে তোলা, সেই কাজগুলোই করা হচ্ছে। এই পৌরসভার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এগিয়ে যাব। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যে আমাদের ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হবে। এর আগে ১০-১৫ বছরে এত উন্নয়ন কাজ হয়নি। পিছিয়ে থাকা এবং উন্নয়ন হয়নি এমন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে আমরা বেশী কাজ করেছি। কারণ সেসব এলাকার লোকজন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। সুবিধা না দিয়ে আমরাত কর আদায় করতে পারি না। আশা করি সকলের সহযোগিতায় আমাদের পরিষদের মেয়াদের মধ্যেই নানন্দিক পৌরসভার কাজ সম্পন্ন হবে।

ট্যাগ: বিশেষ খবর

শীর্ষ সংবাদ:
৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচনে তৃতীয় চাঁদপুরের হোসনে আরা মতলব পৌরসভার সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা