
ইলিশ বাজারে এলেও দাম বেশ চড়াভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই : দুশ্চিন্তায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা
এক ইলিশে মিলবে এক বস্তা চাউল


চাঁদপুরে এবার ভরা মৌসুমেও জমেনি ইলিশের মোকাম। দেশের অন্যতম মৎস্য আড়ত চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ কমেছে। যা আছে, তার দামও অনেক বেশি। একদিকে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, আর অন্যদিকে পদ্মা-মেঘনায় আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ জেলে ও ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যাসহ প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে দোষারোপ করছে ইলিশ গবেষকেরা।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের উপজেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নৌ সীমানায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। অন্য বছর এসময় যে পরিমাণ ইলিশ মিলেছে, তা চাঁদপুরে চাহিদা মিটিয়েও দেশ ও দেশের বাইরে আমদানি করা হতো। কিন্তু এবার আড়তের চিত্র ভিন্ন। পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশ নেই বললেই চলে। সারাদিন জাল ফেলেও পাচ্ছেনা কাঙ্খিত ইলিশ। পরিবার চালানো তো দূরের কথা, মাছ ধরার নৌকার জ্বালানি তেলের দাম উঠাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলেদের। জেলেরা ইলিশ না পাওয়ায় দাদনের টাকা পরিশোধ তো দূরের কথা পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।


ইলিশ ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। দেড় থেকে দুই কেজির একটা ইলিশের দামে বাজার এক বস্তা চাউল পাওয়া যায় বলে জানান ইলিশ ক্রয় করতে আশা ক্রেতারা।
এদিকে জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। এবার ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় হাকডাক নেই চাঁদপুর মাছঘাটে। এখানে প্রায় আড়াইশ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা অলস সময় পার করছেন। কিছু সংখ্যক ইলিশ, থাকলেও দাম তিনগুন। এতে করে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
চাঁদপুর অঞ্চলে ইলিশ কম পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ ডুবচর ও বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষার দূষণ নেমে পানির গুনাগুনে অসুবিধা হওয়ায় ইলিশ বিচরণ কম করছে। তবে বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে ইলিশের প্রাপ্যতা বেড়ে যাবে বলে জানান এই ইলিশ গবেষক।
গত বছর এই মৌসুমে চাঁদপুর মাছঘাটে প্রতিদিন শত শত মণ ইলিশ সরবরাহ হতো। কিন্তু চলতি বছর ৫ থেকে ১০ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। আগামী মাসে ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়বে বলে আশা বুনছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। পপুলার বিডিনিউজ, চাঁদপুর।
E/N








