
আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল্লাহকে খুন করে ট্রেনে কাটা পড়েন দশম শ্রেণির ছাত্র অমিত দাস


চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শহীদ জাবেদ মুক্ত স্কাউট দলের সভাপতি রফিকুল্লাহকে খুনের ঘটনায় খুনীকে শনাক্ত
করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, খুনী ঘটনার পর ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করার পর চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাঁকে অজ্ঞাত শনাক্ত করে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল
ইসলামের মাধ্যমে দাফন করেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পরই মডেল থানা পুলিশ ঘটনার
আশপাশের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে। পাশাপাশি নিহত রফিকুল্লাহের কাছে থাকা মিরাজের জিজ্ঞাসাবাদের
পর পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনা উদ্ঘাটনে মরিয়া হয়ে কাজ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় এ ঘটনা নিহতের সাথে সখ্যতা রয়েছে এমন লোক ঘটিয়েছে। পরবর্তীতে তাঁরা খুনীকে শনাক্ক রার প্রক্রিয়া শুরু করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতা নেয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় চাঁদপুর সদর মডেল থানা
পুলিশ খুনীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।
নিহত রফিকুল্লাহর খুনী চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজার এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের দাসপাড়ার গনেশ দাসের বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর নাম অমিত দাস বয়স ১৬, পিতা গৌতম দাস। সে শহরের গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। এদিকে খুনী অমিত দাস ঘটনার দিন ঘটনা ঘটিয়ে পালপাড়া হয়ে মিশন রোড হয়ে রেললাইন দিয়ে শহরের গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় চলে
যায়। ঐ এলাকায় ঘটনার পর থেকে সারারাত আত্মগোপনে থাকে।


এরপর ভোর রাতে খুনী অমিত শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের শেষ প্রান্তে চাঁদপুর রায়পুর সড়কের রেলক্রসিংর কাছাকাছি স্থানে অবস্থান নেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন আসার
সময়ে রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে তার দেহটি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে
যায়। পরে রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং পিবিআই পুলিশ গিয়ে লাশের বিভিন্ন আলামত জব্দ করে রাখে।
অমিত ঘটনার দিন বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে সারারাত বাসায় না যাওয়া এবং আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিখোঁজ একটি জিডি করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ অমিতকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করার পর ঘটনার দিনের পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত এবং সিসিটিভির ফুটেজের পোশাক ও পিবিআই পুলিশের কাছে থাকা ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে পড়া তরুনের আলামত নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়। এই অমিতই নিহত রফিকুল্লাহর খুনী। পরবর্তীতে পুলিশ অমিতের পোশাকসহ লাশের ছবি ও অন্যান আলামত নিয়ে পুরাণবাজারস্থ অমিতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের মাধ্যমে পুলিশ আরো শতভাগ নিশ্চিত
আত্মহত্যাকারী তরুণ হলো অমিত এবং এই অমিত হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল্লাহের খুনী। পপুলার বিডিনিউজ, চাঁদপুর








