
১৯ ঘণ্টা পর মিললো টিকিট, টিকিট যেন সোনার হরিণ
Link Copied Successfully!

কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেতে বিছানা-বালিশ নিয়ে রাত থেকেই রেলস্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, অনলাইনে কাটতে পারছেন না টিকিট। আছে কালোবাজারির অভিযোগও।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) ইফতারের পর থেকেই সন্তানকে কোলে নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় নীলা আক্তার। ‘সোনার হরিণ’ রেলের টিকিট পেতে বিছানা-বালিশ নিয়ে এসেছেন থাকার প্রস্তুতি হিসেবে।
সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও নীলার মতো আরও অনেক যাত্রী লম্বা লাইনে রাত থেকেই অপেক্ষায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হয় লাইন।
কমলাপুরে একযোগে ১৮টি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি চলছে। এর মধ্যে দুটি নারী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাউন্টার রয়েছে।
রোববার (২৪ এপ্রিল) কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকিটের জন্য। কিছু সময় পর পরই দু-একজন করে কাউন্টারের সামনে থেকে টিকিট নিয়ে ফিরছেন। তারা বলছেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও টিকিটের দেখা মিলেছে। অনেকে আবার চাহিদা অনুযায়ীও টিকিট পাচ্ছেন না।
‘১৯ ঘণ্টা লাইনে থাকার পর টিকিট পেলাম। ইফতারি-সেহরি দুটোই লাইনে দাঁড়িয়ে করেছি। কখনো দাঁড়িয়ে কখনো বসে এভাবেই কেটেছে সময়।’
কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট কেনার পর এমনটাই বললেন মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তবে এই টিকিট পেতে তাকে কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যদিও হাতে টিকিট পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত তিনি।
শুধু মতিউর রহমান নন, তার মতো হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট পেতে অপেক্ষা করছেন।
মতিঝিল থেকে টিকিটপ্রত্যাশী আকরামুল হোসেন বলেন, রাত ২টার সময় এসেছি। এখানেই কষ্ট করে সেহরি খেয়েছি। অবশেষে টিকিট পেলাম। এখন যদি আল্লাহ ঠিকঠাক মতো পৌঁছায়। এসি টিকিট চেয়েছিলাম, বললো টিকিট নাই। সকাল সকালেই টিকিট গেল কোথায়? একা যাবো বলে আমি পরে শোভন চেয়ার টিকিট নিয়েছি। ভোগান্তি হলেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।
সম্রাট সাইদ নামের অন্য এক টিকিটপ্রত্যাশী বলেন, আমি খুলনা যাবো, সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট পেয়েছি। তবে টিকিট পেতে লাইনে থাকতে হয়েছে ৬ ঘণ্টা। এসি টিকিট পাইনি, শুধু শোভনের টিকিট পেয়েছি। আমি মনে করি অনলাইন টিকিট ব্যবস্থ্যা দ্রুত জোরদার করা উচিৎ।
এদিকে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে স্টেশনের ভেতরে। গরম থেকে বাঁচতে টিকিটপ্রত্যাশীদের অনেককেই হাত পাখা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অনেকে শক্ত কাগজ দিয়েও সেই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন।




























