
ফরিদগঞ্জে হর্নি মৎস্যজীবী সমিতির ইজারা অযোগ্য ঘোষণা
Link Copied Successfully!

ফরিদগঞ্জে নিয়ম বহি বহুত ভাবে সদস্য করার তিনটি মৎস্যজীবী সমিতিকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক। অযোগ্য ঘোষণা পরেও জলমহাল নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভাগ ভাগ করে সাব ইজারা প্রদান করেন অযোগ্য ঘোষিত হর্নি মৎস্যজীবী সমিতি। ইজারা বাতিলের পরেও কি ভাবে আবার সাবইজারা দেওয়া হয়, এনিয়ে চলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা । জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে প্রকৃত মৎস্যজীবী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৪ নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পোয়া রনাতলী মৌজার ৯৩.৪০ একর বদ্ধ জলমহালে।
ঘটনার সূত্রে জানাযায়, গতবছর নাটকীয়তার মধ্যেদিয়ে ইজারা দেওয়া হয় পোয়া রনাতলী মৌজার ৯৩.৪০ একর বদ্ধ জলমহালে । ঐ ইজারা অবৈধ বলে স্থানীয় পোয়া রনাতলী চররামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি: গত ২২ এপ্রিল ২০২১সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসককে বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় পূনরায় আবার গত ১১ই মে ২০২১ সালে আরো একটি অভিযোগ করেন উক্ত সমিতি।
পরবর্তিতে অভিযোগ আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন । তদন্ত কমিটি তদন্ত করে গত ৮ই জুলাই ২০২১ সালে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। এদিকে গত ২৭ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ৩৫/চাঁদ/ ১৯৯৩ নং হর্নি মৎস্যজীবি সমিতিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় । সেই অনুযায়ী জলমহাল নীতিমালায় অনুসারে ৩৫/চাঁদ/ ১৯৯৩নং হর্নি মৎস্যজীবি সমিতি কোন বদ্ধ জলমহাল ইজারা রাখতে পারবে না। কিন্তু ৩৫/চাঁদ/ ১৯৯৩নং হর্নি মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহেল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এখন ইজারা ধরে রেখে দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি নিয়ম মোতাবেক জলমহাল ইজারা নিয়ে অন্য কারো কাছে সাব লিজ দিতে পারবে না। কিন্তু সরকারি আইনকে তোয়াক্কা না করে সাইফুল ইসলাম সোহেল টাকার বিনিময়ে ভাগ ভাগ করে এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছে সাব লিজ দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা, বিশাল এই জলমহাল ৮টি ভাগে ভাগ করে সাব লিজ দিয়েছেন ইজারাদার, সাবলিজ দেওয়া হয় রিপন হোসেন নামের একজনকে ৫০ হাজার টাকা, সাবেক মেম্বার আলী আরজনকে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকায়, সফি উল্লাহ ১লক্ষ ২০ হাজার টাকায়, ফারুক হোসেন ভূঁইয়া নামের ২লাখ ২০ হাজার টাকায়, আবুল হাসেম হাজী ৫০ হাজার টাকায়, দেলোয়ার হোসেন বাতেন নিয়েছে ৫০ হাজার টাকায়, শাহাদাত হোসেন টেলু ৫০ হাজার টাকা। জলমহাল টির বাকি বৃহৎ অংশ সাইফুল ইসলাম সোহেল নিজে চাষাবাদ করেন।
এ সময় মৎস্যচাষি শামসুল ইসলাম কালু, আরিফ সরদার, রফিক সরদার, আলাউদ্দিনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, জলমহাল টি অধিকাংশ জায়গায় বাঁধ সৃষ্টি হওয়ার ফলে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার সময় পানির প্রবাহ চলমান না থাকার কারণে এই এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।
আরো বলেন, হর্নি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি এই জলমহাল হতে অনেক দূরে। অবৈধ এবং পরিপূর্ণ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও আমাদের এই জলমহালটি বারবার তারা কিভাবে লিজ নেয় তা আমরা বোধগম্য নই। কিভাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সমবায় অধিদপ্তর নীতিমালা লঙ্ঘন করে আমাদের ইজারা না দিয়ে দূরের সমিতিকে ইজারা দেন। এতে আমাদের এলাকার মৎস্যজীবীরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন।
৩৫/চাঁদ/ ১৯৯৩নং হর্নি মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী জলমাহল ইজারা নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট উপরে অভিযোগ রয়েছে। অপর প্রশ্ননের জবাবে বলেন, আমি কোন সাব লিজ দেই নাই। আমার তালিকা যুক্ত সমিতির সদস্যদের চাষা বাদ করা জন্য দিয়েছি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে জলমাহল ইজারা বিষয়ে জেলা প্রশাসকের চিঠি আসে। চিঠির আলোকে আমরা মৎস্যজীবি সমিতি গুলো তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেই। বাকি কাজ জেলা প্রশাসকের। কোন মৎস্যজীবি লিজ নেওয়া পরে সেটা সাবলিজ দেওয়া কোন অনুমোদন নেই। করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য আসেনা আমি বলতে পারবো না।
গত ২৭ মার্চ জেলা প্রশাসক মিটিংয়ে সমিতি অযোগ্য ঘোষণা করলেও কিছু যানেনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি। এমন মন্তব্য হাস্যকর বলে মনে করেন সচেতন মহল।



























