
ফেসবুকে প্রেম, কোটিপতি প্রেমিকের বাড়ীতে গেলো কলেজছাত্রী ও তার পরিবার!


ফেসবুকে পরিচয়। ছবিও পাঠালো রায়হান চৌধুরী। সুদর্শন চেহারা। হাজীগঞ্জ ডি্গ্রি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ভালোবাসতে শুরু করেন ফেসবুকের এই মানুষটিকে। মাস দুয়েক হলো কথোপকথন। কখনও ম্যাসেঞ্জার, কখনও হোয়াটসঅ্যাপ আবার ইমুতে। তবে একপ্রান্ত থেকে সেই কোটিপতি প্রেমিক রায়হান চৌধুরীর মুঠোফোনের ক্যামেরা নষ্ট ছিল। তাই শুধু ওই কলেজ ছাত্রীকে দেখতো রায়হান চৌধুরী আর কলেজ ছাত্রী তার স্বপ্নের মানুষটিকে দেখতে পারতো না ভিডিওকলে। রায়হান চৌধুরী হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব হাটিলার বাসিন্দা।
গত রোববার ২০ মার্চ বিকালে রায়হান চৌধুরীর বাড়ীতে হাজির কলেজছাত্রী ও তার পরিবার। ২৫ মার্চ রায়হান চৌধুরীর পরিবারের লোকজন বিদেশ থেকে আসবে। তারপর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিকঠাক হবে। সেই সূত্রে একটু যাচাই-বাছাই করতে হাজির হলো তারা। সাথে ছিল পপুলার বিডিনিউজ টিম।
ওই গ্রামের গিয়ে রায়হান চৌধুরী নামের কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তারপর রায়হান চৌধুরীর মুঠোফোন নম্বরে কল করা হয়। কথা বলতে বলতে সামনে এলো শাকিল বেপারী! কলেজছাত্রীর সাথে পূর্বের পরিচিত শাকিল বেপারী। রায়হান চৌধুরী তার বন্ধু শাকিলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রায়হান চৌধুরীর মোবাইল শাকিলের কাছে কেন? বেরিয়ে এলো এই যেন ঢালিউড-বলিউড সিনেমার গল্প। অকপটে সবার সামনে সব শিকার করলো শাকিল। সে নিজেই রায়হান চৌধুরী পরিচয়ে এমন প্রতারণা করেছে।


কলেজছাত্রী পপুলার বিডিনিউজকে জানায়, সম্প্রতি তারা হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এলাকায় একটি নতুন ভাড়া বাসায় উঠে। কিন্তু এমন ফাঁদে পড়বে জানা ছিল না। রায়হান চৌধুরী ও তার বন্ধু শাকিল বেপারীর কন্ঠ একইরকম বিষয়টি বুঝতে পারলেও রায়হান চৌধুরী কান্নাকাটি করে ভুলিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতো। বিষয়গুলো সে তার পরিবারের সাথে তুলে ধরেন। এমনকি রায়হান চৌধুরী ওই কলেজ ছাত্রীর মায়ের সাথেও মা সম্বোধন করে কথা বলতেন। এদিকে পূর্ব হাটিলা গ্রামের কয়েকজন ও কলেজছাত্রীর পরিবার উপস্থিত থেকে শাকিলের ব্যবহৃত মুঠোফোন যাচাই করলে মিলে আরো ভয়ংকর দৃশ্যপট। তার একাধিক ফেসবুক একাউন্ড ও একাধিক মেয়ের সাথে মিলে যৌথ ছবি।
কলেজছাত্রীর মামা পপুলার বিডিনিউজকে জানান এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ে আর কেউ যেনো ফাঁদে না পড়েন।


























