
তথ্য-ঘাটতিও বাজারকে অস্থিতিশীল করছে

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার দিনকে দিন সাধারণ মানুষের সহনীয় মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে, অসহনীয় হয়ে উঠছে জীবনযাপন প্রক্রিয়া। সাধারণত বাজার অর্থনীতিতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে। পণ্যের দাম বেড়ে যায় মূলত দুটি কারণে : প্রথমত, যদি চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায় এবং এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহের বৃদ্ধি না ঘটে; দ্বিতীয়ত, যদি কোনো পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এটা হচ্ছে বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এর বাইরে কিছু বিষয় বাজারকে প্রভাবিত করে। কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমেও বাজারদরকে প্রভাবিত করা হয়। আমরা প্রায়ই সিন্ডিকেটের নাম শুনি। বাজারকে প্রভাবিত করার এটি একটি সংগঠিত চক্র, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
এর প্রতিকার করার জন্য সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে, যারা বাজার ব্যবস্থাপনার দেখভাল করে থাকে। যদি কোনো বাজারে কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি না হয়ে থাকে, তাহলেও বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে। যদি কোনো সরকার তার সংস্থার মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে, তাহলে বাজার স্থিতিশীল হবে না। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে পণ্যসামগ্রীর প্রকৃত চাহিদা এবং সেসব পণ্য উৎপাদনের প্রকৃত পরিমাণের কোনো সঠিক তথ্য নেই। সারা বিশ্বের দেশগুলোতে যা হয় তা হলো, কোনো একটি পণ্যের দেশজ মোট চাহিদা নিরূপণ করা। তারপর দেখা হয় সে পণ্য দেশীয়ভাবে কতটা উৎপন্ন হয়। এ চাহিদা ও উৎপাদনের পার্থক্য দেখে কতটা আমদানি করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। আমাদের সরকারের কাছে কেবল আমদানি-রপ্তানির সঠিক তথ্য আছে, কিন্তু চাহিদা ও উৎপাদনের তথ্যে রয়েছে অনেক অমিল, যা বাজার তদারকিতে সমস্যা তৈরি করছে।


সূত্র:যুগান্তর
E/N



























