
টাকার জন্য মালদ্বীপিয়ানকে হত্যার করে বাংলাদেশের শাহ আলম

দ্বীপরাষ্ট্রের ধাংগেতী আইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ আবুবকরু হত্যা মামলার আসামি প্রবাসী বাংলাদেশী শাহ আলম (সেলিম) মিয়াকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে মালদ্বীপের সর্বোচ্চ আদালত।
শাহ আলমের মতে, টাকার জন্য সে মাহমুদকে খুন করেছে।
ধাংগেতী দ্বীপের মাহমুদ আবুবকরু (৫৭) কে গত বছরের ১৫ই অক্টোবর ঐ দ্বীপের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পানির কূপের ভিতর তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। শাহ আলম (২৯) যিনি একজন ধাংগেতী দ্বীপের বয়স্ক ব্যক্তির তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে কাজ করতেন। মাহমুদ খুন হওয়ার পরের দিন সন্দেহভাজন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় শাহ আলমকে ধাংগেতী দ্বীপের কাউন্সিলর তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, এক হলো উদ্দেশ্য নিয়ে হত্যা এবং অন্যটি মৃতদেহের অপব্যবহার। আদালত তাকে উভয় অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি ফৌজদারি আদালতের শুনানির সময়, শাহ আলম তার দোষ শিকার করেন এবং বলেছিলেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড করেছিলেন, কারণ শয়তান তার মাথার উপর ভর করেছিল। একই কথা তিনি পুরো বিচারের সময় ব্যবহার করেছিলেন।


যেহেতু শাহ আলম মাহমুদকে হত্যার জন্য দায় স্বীকার করেছিলেন, তারজন্য আদালত তাকে মাহমুদের একটি ছবি দেখিয়েছিল যাতে তার পরিচয় এবং হত্যার সময় সে যে পোশাক পরেছিল তা নিশ্চিত করার জন্য। ছবিগুলি দেখে শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন যে তিনি যে ব্যক্তিকে খুন করেছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে ফটোগ্রাফে চিত্রিত ব্যক্তি এবং বলেছিলেন যে হত্যার সময় মাহমুদ কী পরেছিলেন তা তিনি স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেননি। তবে ছবিতে দেখা পোশাকগুলো চেনা চেনা লাগছে বলে জানান তিনি।
আদালতের সভাপতিমণ্ডলীর বিচারক আহমেদ শাকিল বলেন, যেহেতু শাহ আলম দোষ স্বীকার করেছেন, এবং কি তার দোষ স্বীকার করা রায় দিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত উভয় অভিযোগেই তিনি দোষী ছিলেন।
বিচারক বলেছেন যে তিনি মাহমুদের পরিবারকে জিজ্ঞেস করবেন এবং তাদের কথা জানতে চাইবেন। তবে মৃতের পরিবারের লোকজন এই সময়ে করোনা ভাইরাসের কারনে কোয়ারেন্টাইনে থাকায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সাজা শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে বুধবারের শুনানিতে পরিবার কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে আদালতে।
মাহমুদের পরিবারের পক্ষ্যথেকে বলা হয়েছিল যে তারা ‘কিসাস’ বা ব্লাড মানি চেয়েছিল মাহমুদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে। যদিও শাহ আলম একটি দরখাস্ত চুক্তির অনুরোধ করেছিলেন, রাষ্ট্র একটি আবেদনের চুক্তির সাথে অগ্রসর হতে অস্বীকার করেছিল কারণ ভিকটিমের মালিক পক্ষ্য এইটি চায়নি।
রাষ্ট্র বলছে, সেলিম মাহমুদকে একটি ছুরি ও দুটি ধারালো ধাতব রড দিয়ে হত্যা করেছে। অস্ত্রের আঘাতে তার বুকে ও গলায় খোঁচা দেওয়া হয়েছে। মাহমুদের লাশ বস্তায় ভরে একটি কূপে ফেলে দেই খুনিরা।




























