
করোনায় কুমিল্লায় বন্ধ ৪৮৫ কিন্ডারগার্টেন


প্রাণঘাতী করোনায় অনেক শিক্ষার্থীর স্বজনদের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে প্রাণের বিদ্যালয়টিও। ভাইরাসের তাণ্ডবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যাপীঠে এখন ঝুলছে তালা। মহামারিতে কুমিল্লায় ৪৮৫টি কিন্ডার গার্ডেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্কুলে যেতে পারেনি তারা। গত বছরও এ জেলায় ২২৪৬টি কিন্ডারগার্টেন চলত। এ বছর এর সংখ্যা কমে ১৭৬১ তে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত এক বছরে ৪৮৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এসব কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা চরম বেকায়দায় পড়েছে।
কুমিল্লার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, ২০২০ সালে জেলায় ২২৪৬টি কিন্ডারগার্টেন ছিল। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়েও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে আড়াই লাখ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে আসছিল। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। চলমান করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কুমিল্লার সবকটি কিন্ডারগার্টেনও বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাড়ায়চালিত এসব স্কুলের মধ্যে গত এক বছরে ৪৮৫টি স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।
অপরদিকে বুড়িচং উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলশিক্ষক রবিউল। তিনি নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন রং মিস্ত্রি হিসাবে। রবিউল বলেন, এমন সমস্যায় পড়তে হবে ভাবতেও পারিনি। তাই বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে রং মিস্ত্রির কাজ করছি। কুমিল্লা জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামীম হায়দার বলেন, করোনা মহামারিতে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি।


তবে এখনো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তালিকায় নাম লিখে রেখেছে ১৭৬১টি কিন্ডারগার্টেন। সূত্র জানায়, করোনায় বন্ধ থাকার পর যেসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে এগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থ সংকট, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ নানা সংকটের কারণে চালু হয়েও বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, গত এক বছরে জেলার ৪৮৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। কিন্ডারগার্টেনগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান কিংবা প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় আমার জানা নেই। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের সরকারি বিদ্যালয়ে এলে তাদের ভর্তি করা হবে।
E/N



























