
গেজেটের অপেক্ষায় চাঁদপুরের ২৮ জন বিসিএস ক্যাডার


২২০৪ জন সুপারিশ প্রাপ্ত ক্যাডারদের মধ্যে চাঁদপুর জেলা থেকে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন ২৮ জন। গেজেটের অপেক্ষার প্রহর গুণছে একঝাঁক মেধাবী।
যার মধ্যে ১জন সহকারী সচিব (পররাষ্ট্রক্যাডার) , ১ জন সহকারী পুলিশসুপার (পুলিশক্যাডার), ১ জন সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) (গণপূর্তক্যাডার) , ১ জন সহকারী প্রকৌশলী (পুর) (সড়ক ও জন পথ ক্যাডার) , ৮ জন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট (প্রশাসনক্যাডার), ১১ জন প্রভাষক (শিক্ষাক্যাডার) , ১ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (করক্যাডার), ১ জন খাদ্য নিয়ন্ত্রক (খাদ্যক্যাডার), ২ জন সহকারী সার্জন (স্বাস্থ্যক্যাডার) এবং একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (কৃষিক্যাডার) সুপারিশ প্রাপ্ত হন।
জানা গেছে, গত ৩০ শে জুন ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ২২০৪ জনকে ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশোন (পিএসসি)। সন্তোষজনক পুলিশ ভেরিফিকেশন, প্রশাসনিক ভেরিফিকেশন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর উত্তীর্ণদের নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


সর্বশেষ তথ্য মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগে বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মোঃ মোতাহার হোসেন। তিনি পপুলার বিডিনিউজকে বলছেন, ‘সামাজিক মর্যাদা, চাকরির নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার সুযোগ – প্রভৃতি বিচারে প্রজাতন্ত্রে চাকুরী প্রত্যাশিদের প্রথম পছন্দ থাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য কর্মজীবন শুরু করা। আর এর জন্য তিনটি অমশৃন ধাপ সফলতার সাথে অতিক্রম করতে হয় একজন ক্যাডার প্রত্যাশীকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য , বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান, গানিতিকযুক্তি ও মানসিক দক্ষতাসহ নিজ নিজ বিষয়ের উপর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিটি ধাপে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে হয়। তার পর ভাইভা ও স্বাস্থ্য পরিক্ষায় উর্ত্তীণরা সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ প্রাপ্ত হন ।’
উপজেলা ভিত্তিক সুপারিশ প্রাপ্ত ক্যাডারগণ-
চাঁদপুর সদর উপজেলা থেকে বিসিএস এ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে নিলয় সাহা (গণপূর্ত) , মোহাম্মদ ইরফান চৌধুরি (পররাষ্ট্র), মোঃআরিফুল ইসলাম (শিক্ষা), রিফাতরেজা (কর),ফারহানা আক্তার (শিক্ষা)।
হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে সুপারিশ প্রাপ্তরা হলেন – মুহাম্মদ জানেবুল হাসান (শিক্ষা), দীপংকর সূত্রধর (শিক্ষা), মোঃমোতাহার হোসেন (সড়ক ও জনপথ), মোঃআবুল কাশেম (স্বাস্থ্য), রিয়াজ মাহমুদ (খাদ্য)।
শাহরাস্তি উপজেলা থেকে সুপারিশ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে দিলরুবা ফাতেমা বৃষ্টি (শিক্ষা), বেনজির সুলতানা মনি (স্বাস্থ্য), মোঃআসাদুজ্জামান (শিক্ষা), তানভির হাসান তুরান (প্রশাসন)।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে সুপারিশ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আনিসুর রহমান (প্রশাসন), মোঃদিদারুল আলম সজল (শিক্ষা) এআর এম মোজাফফর হোসেন (পুলিশ), সজিব সাহা (স্বাস্থ্য), শাহনেওয়াজ তানভীর (প্রশাসন)।
কচুয়া উপজেলা থেকে সুপারিশ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ লেনিন (প্রশাসন), মোজসীম উদ্দীন (প্রশাসন), মোঃ রাশেদ চৌধুরী (কৃষি), মারজানা আক্তার (প্রশাসন), নাসরিন (প্রশাসন)।
এছাড়া মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ থেকে সুপারিশ প্রাপ্ত হলেন যথাক্রমে – মোঃ এনামুল হক (শিক্ষা), মোহাম্মদ মোফাসসের (প্রশাসন)।
উল্লেখ্য, বিসিএস ক্যাডার নির্বাচন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি) ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ১১০০ (নিজ বিষয়ে ২০০ নম্বরসহ) নম্বরের লিখিত এবং সর্বশেষ ২০০ নম্বরের মৌখিক বা ভাইবা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে।
বলা বাহুল্য, ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় ৩লাখ ৮৯হাজার৪৬৮ জন প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে করে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উর্তীর্ণ ১৪৫৪৬ লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ কারীদের মধ্য ৯৮৬২ জন ভাইভায় অংশ গ্রহণের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হয়। ভাইভায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ২২০৪ জন ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এরই মধ্যে ক্যাডার প্রাপ্তদের পুলিশ ও প্রশাসনিক ভেরিফিকেশন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর জেলা থেকে ৩৮ তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরে নন-ক্যাডার ও ব্যাংকসহ অন্যান্য স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। গেজেট প্রত্যাশীরা দ্রুত তম সময়ে তাদের গেজেট এবং যোগদানের জন্য ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন।
চাঁদপুরের কৃতি সন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুজন আরিফ চাঁদপুর বাসীর পক্ষ থেকে ২৮ জন বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত নব-ক্যাডারগণকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিবাদন জানিয়ে বলেন, ‘তারা তাদের কর্ম মেধা ও পেশা দারিত্বের মাধ্যমে চাঁদপুরকে আলোকিত করবে প্রত্যাশা রইলো। স্বচ্ছতা, সততা এবং কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে চাঁদপুর বাংলাদেশের অন্যতম মডেল জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে- এই কামনা করি।’























