
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, হোটেল মালিকসহ আটক ২


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আবাসিক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক হোসেন লিটন ভাড়া করা ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে তুলে নিয়ে নিজের হোটেল ভবনে আটকে মারধর করেন।


খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদ পট্টির আনোয়ার মঞ্জিল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
জানা গেছে, মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পতিতাবৃত্তি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার ওই হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে হোটেল খোলা রাখা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত যুবক-যুবতীকে আটক করে।
এ সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন এ হামলা চালান বলে অভিযোগ। সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন ও বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান জানান, ‘অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে হোটেল পরিচালনার দায়ে মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তানজিনা জাহান, ওসি মো. আব্দুল মান্নান ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম উপস্থিত ছিলেন।

























