
সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীকে নিয়ে সহযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ


অনন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরীর চিরবিদায়। পরপারে চলে গেলেন চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় কিংবদন্তীতুল্য প্রথিতযশা সাংসবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরী। শেষ বিদায়ে চাঁদপুরবাসী অনন্ত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, জেলার সরাসরি প্রথম প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পণে র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চ্যানেল আইয়ের এই জেলা প্রতিনিধি।
দীর্ঘদিন কিডনিজনিত অসুস্থতায় থেকে ৮ আগস্ট শনিবার ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকার ধানমন্ডীস্থ কিডনী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। শনিবার বাদ আছর একাধিকবার নেতৃত্ব দেয়া চাঁদপুর প্রেসক্লাব মাঠেই প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বর্ষীয়ান এই সাংবাদিকে।
বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে মরহুম ইকরাম চৌধুরীকে বহনকারী লাশবাহী গাড়ী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছলে অপেক্ষমান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাদের প্রিয় নেতার জন্যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা সৃষ্টি হয়।



প্রেসক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত মরহুমের প্রথম জানাজার পূর্বে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুঠোফোনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা পূর্বক শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, জনাব ইকরাম চৌধুরীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমি যেনো আমার ভাই, সুহৃদ ও একজন আপন মানুষকে হারালাম। আমি খুবই শোকাহত। আমার যে কোনো প্রয়োজনে তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমিও চেষ্টা করেছি তাঁর পাশে দাঁড়াতে। তিনি ছিলেন বহুগুণের অধিকারী একজন স্বজ্জন ব্যক্তি। চাঁদপুরের সাংবাদিক জগতে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। তিনি চাঁদপুরের সাংবাদিক জগতকে এক ও অভিন্ন রাখার চেষ্টা করে গেছেন। শিক্ষামন্ত্রী যে কোনো প্রয়োজনে মরহুম ইকরাম চৌধুরীর পরিবারের পাশে থাকবেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।
সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন হেলাল লিখেছেন- ক্ষমা করো প্রিয় ইকরাম
ইকরাম চৌধুরী। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি, চ্যানেল আই এর স্টাফ রির্পোটার এবং দৈনিক চাঁদপুর দর্পনের সম্পাদক ও প্রকাশক। আজ ভোরে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমার অত্যন্ত স্নেহাস্পদ এই কৃতি সাংবাদিক দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়বেটিস ও কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। ইকরামের এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। চাঁদপুরের সকল সাংবাদিক শোকাহত। চাঁদপুরের সকল মানুষ শোকাহত। আল্লাহ তাকে বেহেস্তে নসিব করুন।
চাঁদপুরে ইকরাম চৌধুরী ছিল আমার একটি শক্ত হাত, একটি খুটী। সেই কলেজ জীবন থেকে সম্পর্ক। আমার কাছেই সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে গর্ববোধ করতো। ইকরাম চাঁদপুরে অনেক অনুষ্ঠানেই আমার উপস্থিতিতে, অনুপস্থিতিতে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে কুন্ঠাবোধ করেনি যে, একমাত্র আমিই তার উস্তাদ, সে আমার শিষ্য। হাতেকলমে সাংবাদিকতা শিখিয়েছি। পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতো। এটি তার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। আমি বিব্রত হলেও সে তার এই কৃতজ্ঞতা আর সরল উক্তি প্রতিনিয়তই প্রকাশ করতো। এটা ঠিক ইকরাম আমার সাথে কুমিল্লায় একই কলেজে পড়তো। এলাকার বড়ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতো। লক্ষ্য করতাম, জুনিয়র হলেও কেন যেন ছায়ার মত আমার সাথে থাকতো। আমারও তখন সাংবাদিকতার নেশা। কুমিল্লায় ইত্তেফাক প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর এক নিকটাত্মীয় ছিল আমার ক্লাশমেট। তাকে দেখে উৎসাহিত হতাম। ৮০ এর দশকে ইত্তেফাকের চিঠিপত্র কলামে বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ নিয়ে লিখতাম। ছাপা হলেই আহ কি আনন্দ। ১৯৮৪ সালে আমি বহুল প্রচারিত দৈনিক খবরের চাঁদপুর প্রতিনিধি। ইকরামেরও প্রচণ্ড আগ্রহ সে সাংবাদিক হবে। দেশ সেবা করবে। আমি কি লেখি, কিভাবে লেখি, নিউজের ৫ ডব্লিউ, ইন্ট্রো-এসব হাতে কলমে শিখে নেয়। এক সময় সে সাংবাদিক হয়ে গেল। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেল। শেষ সময়ে ছিল দৈনিক যুগান্তরের চাঁদপুর প্রতিনিধি। আমি যুগান্তরের বিজনেস এডিটর। পরে অসুস্থ্যতাজনিতকারণে সে অব্যাহতি নেয়। ইকরামই চাঁদপুরে একঝাক তরুন সাংবাদিক উপহার দিয়েছে। একাধিকবার চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি, সেক্রেটারী হয়েছে। তার নেতৃত্বে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব আধাপাকা টিনের ঘর থেকে একটি বহুতল আধুনিক স্থাপনায় স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ, বিনয়ী ইকরাম কখনো সাংবাদিকতায় আপোষ করেনি। এ পেশায় থেকে অনেকেই আর্থিক স্বচ্ছলতা পেয়েছে। কিন্তু ইকরামকে শেষ সময়েও তার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমসিম খেতে হয়েছে। বিপদে পড়ে অনেকবার আমার দ্বারস্থ হয়েছে। নিজের আর্থিক দীর্ণতার কথা অকপটে স্বীকার করতো। তার স্ত্রী প্রায়ই ইকরামের অসুস্থ্যতা নিয়ে কথা বলতো। আর্থিক দুরবস্থার কথা জানাতো। অথচ ইকরামের অনেক সুযোগ ছিল। সে কখনো অন্যায়ের কাছে আপোষ করেনি।
ইকরামের হাত ধরে তার পরিবারের অনেক সদস্যই এখন সাংবাদিকতায়। এ কথা নির্ধিদ্বিধায় বলা যায়, চাঁদপুরের সাংবাদিকতায় আজ যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পেশাদারিত্ব করছেন, দায়িত্বরত আছেন তার সিংহভাগই এই ইকরাম চৌধুরীর হাতে গড়া। আমার দুর্ভাগ্য এমন এক সময়ে ইকরাম চলে গেল যখন তার পাশে দাড়াতে পারলাম না। করোনা ভাইরাস সবাইকে কাছ থেকে অনেক দুরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন মৃত্যুর পরও করোনা আতংকে তার কাছে যেতে পারছি না। আমার আশপাশে অনেকেই এই মরনব্যাধীতে আক্রান্ত। নিজেও কিছুটা অসুস্থ্য। তোমার মুখটাও শেষবারের মত দেথতে পারলাম না। ক্ষমা করো্ প্রিয় ইকরাম। পরপারে মহান আল্লাহ তোমাকে ভাল রাখুন-এই দোয়া ছাড়া আর কিই বা করার আছে?

ইউএনবির শাহরিয়ার পলাশ লিখেছেন-
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী আর নেই। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী আজ ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী, পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ইকরাম চৌধুরি চ্যানেল আই ও জাগো নিউজের চাঁদপুর প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া তিনি চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পনের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একজন দক্ষ সাংবাদিক, সংগঠক ও গুণি মানুষ জনাব ইকরাম চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরাম গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। মরহুমের জান্নাত লাভের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি। সেই সাথে পরিবারের সদস্যরা যাতে এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারে সেই জন্য দোয়া করছি।
চাঁদপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য প্রচেষ্টায় তাঁর ভূমিকা সবসময় সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সিনিয়র সাংবাদিক জাকির মজুমদার লিখেছেন-
ক্ষমা করে দিবেন প্রিয় ইকরাম ভাই। সাংবাদিক হয়ে জীবনের বেশিরভাগ সময় মানুষের দুঃখ-দুর্দশার ফেরি করে চললেও নিজের জীবনের অন্তিম-অসুস্থ অবস্থায় আশানুরূপ এবং দ্রুত সমযোপযোগী সহযোগিতা বঞ্চিত ছিলেন। সৎ, নির্বিক ও আপোসহীন সাংবাদিকতার এটিই ফল। পরপারে আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।
সাংবাদিক কাদের পলাশ লিখেছেন-
চাঁদপুরের সাংবাদিকতায় একটি বটবৃক্ষের নাম ইকরাম চৌধুরী। ২০১১ সালে যখন স্থানীয় একটি পত্রিকা থেকে অব্যহতি নেই। পরে তাঁর পরামর্শ নিতে গিয়েছি নাজিরপাড়াস্থ দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকা অফিসে। আমাকে সাথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন। সহকারী বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন। কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রসংশা পেয়েছি। তবে একসাথে বেশিদিন থাকা হয়নি। ছয় কি সাত মাস পরে অপরএকটি স্থানীয় দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাই। ইকরাম ভাই আমার চলে আসা মেনে নিতে পারেননি। ভালোবাসার ছলে একটি হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি জানি তিনি আমায় হৃদয়ের গহীন থেকে দোয়া করেছিলেন। ইকরাম ভাই আজ প্রয়াত। বুকের ভেতর অভাববোধ গড়াগড়ি খাচ্ছে। অশ্রুফোঁটা চোখের কোনে জড়ো হচ্ছে, অতিশোকে বরফ হচ্ছে হয়তো। তারপর উড়ে যাবে হাওয়ায়। বুকের ভেতর যে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তাও পাথর হতে দলা পাকাচ্ছে। ০৭ জুলাই ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছিলো।অনেক কথা বলার ছিলো কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠেনি। আর উঠবেও না, ভাবতেই গলা শুকিয়ে আসছে। ভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে অচীন পথে। যে পথে হারিয়ে গেলেন প্রিয় ইকরাম ভাই। শ্রদ্ধার মানুষ প্রিয় মানুষ ইকরাম ভাই ওপাড়ে ভালো থাকুক এ প্রার্থনা বিধিদরবারে।

সাংবাদিক আহসান উল্ল্যাহ লিখেছেন- আমি বাকরুদ্ধ!
কখনো ভাবিনি বিদগ্ধ ও প্রাজ্ঞ এই সাংবাদিক নেতার সহযোগী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েও তাঁকে ধরে রাখতে পারবো না ! সত্যিই ধরে রাখতে পারলাম না। তিনি চলে গেলেন মাওলার ডাকে। আর আসবেন না আমাদের মাঝে। ওপারে ভালো থাকবেন, শান্তিতে থাকবেন প্রিয় নেতা ইকরাম ভাই।
সাংবাদিক জিএম শাহীন লিখেছেন-
আধুনিক প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, আমাদের প্রদীপ, আমাদের বটবৃক্ষ, সাংবাদিকদের আকাশের নক্ষত্র, প্রিয় নেতা ইকরাম চৌধুরীর শেষ বাবরের মতো এলেন প্রাণের প্রতিষ্ঠানে…..
ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় ভাই।
সাংবাদিক মানিক ভৌমিক লিখেছেন-
চাঁদপুরে মফস্বল সাংবাদিকের দিকপাল ইকরাম চৌধুরী আর নেই। ১ এপ্রিল ২০১৮। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর এসেছেন। আমরা কচুয়া থেকে ২০/২২ জন সংবাদকর্মী চাঁদপুরে এসেছি। দুপুরে প্রত্যেকের হাতে লাঞ্চের প্যাকেট। বসে খাওয়ার মতো জায়গা কোথাও নেই,পুরো শহর মানুষে ভরপুর। কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রিয়তোষ পোদ্দার আমাদেরকে নিয়ে ইকরাম চৌধুরীর বাসায় গেলেন, উদ্দেশ্য অসুস্থ ইকরাম ভাইকে দেখা ও খাবারের প্যাকেটগুলো সাবার করা। ইাকরাম ভাই আমাদের হাতে খাবারের প্যাকেট দেখে রাগ করলেন। বললেন, বাসায় যা আছে তাই হতো। সবাই মিলে ডাল-ভাত খেতাম। আমরা প্যাকেট খাবার খেতে শুরু করলে ইকরাম ভাই বাসায় রান্না করা তরকারি নিজের হাতে পরিবেশন করেন। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি সকলের খোঁজ-খবর নেন। ইকরাম ভাইয়ের একটি বড় গুণ হলো বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে সকল সাংবাদিকদের তিনি নাম ধরে ডাকতেন। তাঁর পত্রিকায় কাজ না করলেও তিনি আমাকে দেখলেই নাম ধরে ডাকতেন এবং কুশল জানতেন। আর কখনো তাঁর স্নেহময় ডাক শুনতে পাবো না। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। ইকরাম ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন ডালিম লিখেছেন- ওপারে ভাল থাকুন ইকরাম ভাই।
সাংবাদিকতার কারনেই তার সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক। ২০০০সালে মাঝামাঝি সময়ে একদিন ছেংগারচর বাজারে আমার এক সহযোদ্ধার সাথে মনমালিন্য তৈরি হয়। হঠাৎ বলে উঠলাম আগামীকাল থেকে আমি চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করব। আমি বিকাল বেলা আমিরাবাদ লন্ঞ্চঘাট হাজির হলাম। নৌকা দিয়ে লন্ঞ্চে উঠতে হবে।অনেক লোক নৌকায় উঠলো, হঠাৎ মনটা বেঁকে বসলো আমি নৌকায় লোক বেশি হওয়ার কারনে উঠলাম না।নৌকা কিছুদুর যাওয়ার পর ডুবে গেলো। নৌকার সকল যাত্রী সাঁতরে পারে উঠার চেষ্টা করলো।এরমধ্যে বড় হলদিয়া গ্রামের একজন তরুন প্রকৌশলী মারা গেলো পানিতে ডুবে।নৌকায় থাকা মুলি বাঁশের তবজাতে ছয় মাস বয়সী একটি শিশু অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেলেও তরুন প্রকৌশলী মারা যায়। আমি উক্ত বিষয়ে সকল ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে রাতে চাঁদপুর শহরে ( তখন অনন্যা মার্কেটে অফিস ছিল দর্পণ পত্রিকা কার্যালয়) পত্রিকা অফিসে গিয়ে হাজির হই। সামনে এগিয়ে আসেন পত্রিকা সম্পাদক ইকরাম ভাই। তখনকার সময়ে হাতে লেখা নিউজ অফিসে দিতাম।আমার হাতে লেখা নিউজ টা পড়ে ইকরাম ভাই সাথে সাথে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিউজটি পত্রিকার প্রথম লিড নিউজ করে আমার নাম দিয়ে এবং তার পত্রিকায় মতলব উত্তরে প্রতিনিধি থাকা সত্বেও আমাকে তার পত্রিকায় কাজ করার অনুমতি দেন। বেশ কিছু দিন উনার সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয় আমার। তারপর চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামে আমাকে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার পিছনে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। কখনো কটুবাক্য ব্যবহার করে কথা বলতেন না।তার কাছে শিক্ষনীয় অনেক বিষয় খুঁজে পেতাম। গত দুবছর যাবত দেখা হলেই আমাকে বলতেন ডালিম তুমি আমাকে ভুল বুঝো না। চাঁদপুরে একটা ঘটনা কে কেন্দ্র করে প্রায়ই তিনি অনুশোচনা করতেন। তখন শুধু বলতাম আপনি তো আমার বড় ভাই অভিভাবক।শেষ দেখা হয়েছিল জানুয়ারি মাসে দর্পণ পত্রিকা কার্যালয়ে। তিনি সবসময় আমাকে বলতেন, এগিয়ে যাও ডালিম। কোনো দরকার হলে ভাই কে স্মরন করিও। ভাই আমি আপনার মত একজন সমুদ্রসম মানুষ কে হারালাম। আপনার সাথে আমার বিভিন্ন সময়ে কথোপকথনের অনেক বিষয় রয়েছে যা লিখে শেষ হবে না। আপনি ওপারে ভাল থাকুন। হে আল্লাহ আপনি মরহুম ইকরাম চৌধুরী ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন আমিন।
প্রসঙ্গত, বহুগুণের অধিকারী সাংসবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের একাধিকবারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক, চ্যানেল আই ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী।
শেষ বিদায়ে তার স্বজন- শুভাকাঙ্ক্ষীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে, নিজের কর্মময় আলোকিত জীবনের মাধ্যমে চাঁদপুরের সর্বমহলের কাছে আলোকবর্তিকা হয়েই থাকবেন সততার সাথে ৩ যুগ পার এই কলমযোদ্ধা। জাগতিক সব অধ্যায় থেকে চির প্রস্থান করলেও জেলার সকল পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের মনের হীরক দ্যুতিতে চিরদিন জ্বলে থাকবেন অসংখ্য সাংসবাদিক গড়ার কারিগর কীর্তিমান মানুষটি।

























