মতলব উত্তরে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ, বিপন্ন কবিরাজি চিকিৎসা

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট চাঁদপুর
আপডেটঃ মে ১১, ২০২৫ | ৯:১০
Link Copied Successfully!

মতলব উত্তর উপজেলায় এক সময় ভেষজ উদ্ভিদের ছিল বিপুল সমাহার। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়, এমনকি পতিত জমিতেও জন্মাতো নানা প্রজাতির ভেষজ গাছগাছড়া। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ কবিরাজি চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও।
বিনন্দপুর গ্রামের প্রবীণ কবিরাজ আব্দুল হান্নান মিয়াজী বলেন, “একসময় ভোরবেলা ঝোপে গিয়ে প্রয়োজনীয় গাছ তুলে আনতাম। এখন ৪-৫টা গাছ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। রোগী আসে, কিন্তু ওষুধ বানাতে উপাদান মেলে না। তাই অনেকে পেশা ছেড়ে দিচ্ছে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘মতলবের মাটি ও মানুষ’ এর পরিচালক শামীম খান বলেন, “আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু বইয়ে পড়ে জানবে এসব ভেষজ গাছের কথা। তাই আমরা স্কুল, কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনার ও গ্রামে গ্রামে গাছ লাগানোর কর্মসূচি চালু করব।”
ছেংগারচর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, “আমাদের পাঠ্যবইয়ে বাসক, তুলসী, চন্দনের কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা সেগুলো দেখি না। যদি স্কুলে এসব গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে শিখে রাখতাম।”

বদরপুর আদমিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক প্রফেসর আলমাছ মিয়া বলেন, “আগে আমাদের আশপাশের গাছ দিয়েই সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, চর্মরোগ সারানো যেতো। এখন ওষুধ কিনতেই শহরে ছুটতে হয়। তরুণরা এসব গাছ চেনেই না। এটা এক ধরনের সাংস্কৃতিক ক্ষয়।”

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ বলেন, “ভেষজ উদ্ভিদ আমাদের কৃষি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অতি নগরায়ণ, অজ্ঞানতা ও অপরিকল্পিত গাছ কাটা এ উদ্ভিদগুলোকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও চারা বিতরণের মাধ্যমে এ ধারা রোধ করা সম্ভব।”

ছেংগারচর সরকারি কলেজের অধ্যাপক আবুল বাসার দেওয়ান বলেন, “ভেষজ উদ্ভিদ শুধু ওষুধ নয়, এটি একটি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যের অংশ। বিভিন্ন গবেষণাগারে জানাজায় যেসব অঞ্চলে ভেষজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে রোগবালাই বেড়েছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।”

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, “পঞ্চাশের দশকে আমাদের গ্রামে কানে শোনা রোগ হলে আকন্দ পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া দিয়ে চিকিৎসা হতো। আজ এসব শুধু স্মৃতি। বর্তমান প্রজন্ম জানেই না ভেষজ উদ্ভিদের শক্তি কতটা ছিল।”

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পর্যায়ে নীতিগত উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা এবং স্কুল-কলেজভিত্তিক গাছ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করলে আবারও ফিরে আসতে পারে ভেষজ ঐতিহ্য। সেইসাথে টিকে থাকবে কবিরাজি চিকিৎসা এবং গ্রামীণ জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
বই পড়ার অভ্যাসই শিক্ষার্থীদের নেতিবাচকতা থেকে দূরে রাখবে: প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী আল-আকসায় ১০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি হামলা চালায় জাতীয় সংসদে ফেরদৌসী মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা ৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন