
চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক বছর ধরে বন্ধ, জানুয়ারিত চালুর প্রস্তুতি
Link Copied Successfully!

এক বছর ধরে বন্ধ চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ডলার সংকটে গেলো নভেম্বরে চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে যন্ত্রপাতি আমদানীর জটিলতা শেষে নতুন বছরের শুরুতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। চাঁদপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮৫ মেগাওয়াট। এটি বন্ধ এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট থাকায় চাঁদপুরে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০% বিদ্যুৎ পাচ্ছে গ্রাহকেরা। যার কারণে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে।
চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসসহ বড় বড় যন্ত্রপাতি, মেশিন অকেজো। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এটি। কয়েকদফা চেষ্টা করেও চালু করতে পারিনি কর্তৃপক্ষ। যদিও ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে চালু হওয়ার কথা। কিন্তু এলসি সংক্রান্ত জটিলায় তা সম্ভব হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক বলছেন, সরকারের বিশাল অর্থের বিনিময়ে চাঁদপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এটি এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। তিনি মনে করেন, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে চরম অবহেলা রয়েছে।
চাঁদপুর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, এভাবে অব্যবস্থাপনায় পড়ে রয়েছে, যা একেবআরেই কাম্য নয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একবছর ধরে বন্ধ থাকায় মেশিন ও যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অচিরেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা প্রয়োজন।
জেলায় লোডশেডিং কমাতে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার দাবী স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের।
এলসি সংক্রান্ত জটিলতায় পিছিয়ে পড়ার কথা জানিয়ে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নূরুল আবছার বলেন, ২০২২ সালে ৬ ডিসেম্বর রক্ষাণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ হয় দুটি ইউনিট। একটি ৫০ মেগাওয়াট, আরেকটি ১০০ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি সংস্কার ও রক্ষাণাবেক্ষনের পরে ৭ ফেব্রুয়ারি চালু করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে একটি গ্যাস বুষ্টার চালু না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। দেশীয় জনবল ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে এটি ভিতরগত ক্ষতিগ্রস্থের সন্ধান পায়। সমস্যা সমাধান করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছি। প্লান ছিল গ্যাস বুষ্টারটি সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করে নভেম্বরের ১৫ তারিখ চালু করবো। কিন্তু এলসি সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। ব্যাংকের আর্থিক যে কার্যক্রম সেগুলো একটু বেশি সময় লাগায় আমাদের প্লানমত এগুতে পারিনি। তবে বর্তমানে এলসি সংক্রান্ত কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। আশাকরি ডিসেম্বর মাসের ২০-২১ তারিখ চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এসে মালামাল স্টোরে এসে পৌঁছবে। এরপর ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ১০-১২ তারিখের মধ্যে গ্যাস বুষ্টারের কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করতে পারবো বলে আমরা আশা করি।
২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে চায়না চেংদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


























