প্রবাসীদের যে ভুলে বিপদের দিকে দেশ

মোহাম্মদ গোলাম রাব্বী ঢাকা, বাংলাদেশ
আপডেটঃ মে ২, ২০২৩ | ৫:১৫
Link Copied Successfully!

বলা হয় বাংলাদেশকে টিকিয়ে রেখেছেন তিন প্রকারের পেশাজীবী মানুষ। আর তারা হলেন কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী এবং প্রবাসী শ্রমিক।

তাদের শ্রম আর ঘামের উপর দাড়িয়ে আছে এদেশের সাড়ে ষোল কোটি (সরকারি হিসেবে) আমার মতে একুশ কোটি মানুষের খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার ভাগ্য।

আমাদের কৃষকরা আমাদের জন্য খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন করেন। কিন্তু তারা যে পরিমাণ খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল বাজারে যেগান দিয়ে থাকেন তাতে আমাদের সামষ্টিক চাহিদা পূরণ হয় না।

বিজ্ঞাপন

আমাদের কৃষি জমির অপ্রতুলতা, জমির ব্যবহারে অদক্ষতা এবং সনাতন কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগ এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। সুতরাং বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করে জনগণের চাহিদা মিটাতে হয়।

 

আর বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে লাগে বৈদেশিক মুদ্রা যার যোগান দিয়ে থাকেন আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা যাদেরকে আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে সম্মান জানাই এবং গার্মেন্টস কর্মীরা যাদের জন্য এখনও আমরা কোন সম্মান সূচক শব্দ আবিষ্কার করতে পারিনি। এখানে উল্লেখ্য যে আমরা আমাদের কৃষকদের জন্যও কোন সম্মান সূচক শব্দ আবিষ্কার করতে পারিনি। জানিনা এই ব্যর্থতা কার।

বিজ্ঞাপন

 

যাহোক যে প্রসঙ্গে কথা বলছিলাম সেখানে ফিরে আসি। আমাদের যে খাদ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মেশিনারি আমদানি করার জন্য যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় তার একটি বড় অংশের যোগান দিয়ে আসছেন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ভাইয়েরা। দেশের উন্নয়নে তাদের অবদান অনন্য। কিন্তু তাদের এই অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে তাদের অনেকের না বুঝা কিছু ভুল।

 

বাংলাদেশে দেশবিরোধী একটি চক্র স্বাধীনতার ঠিক পর থেকেই কাজ করছে। এখনও তা অনেক শক্তিশালী। এই চক্রটি দেশের উন্নয়নকে নস্যাৎ করতে চায়। দেশের চেয়ে তাদের বিদেশ প্রীতি বেশি। দেশের সম্পদ লুটপাট করে তারা বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

 

অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করার জন্য তারা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও কিছু টাকা বেশি পাওয়ার লোভে তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো তুলে দিচ্ছেন অর্থ পাচারকারীদের হাতে। তারা হয়তো বুঝতে পারছেন না যে এর কারণে রাষ্ট্রের কত বড় ক্ষতি হচ্ছে এবং তারা নিজেরাও কত বড় ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন।

 

প্রথমত তারা রাষ্ট্রের সম্পদ পাচার করার ক্ষেত্রে পাচারকারী তথা দুর্নীতিবাজ তথা দেশ বিরোধী শক্তিকে সহায়তা করছেন। অর্থ পাচার সহজ হওয়ার কারণে দুর্নীতিবাজরা আরও বেশি দুর্নীতি করার সাহস এবং সুযোগ পাচ্ছে।

 

ফলে রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানেই জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যেহেতু রাষ্ট্রর মালিক জনগণ।

 

ভুল করা রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের একজন নাগরিক হওয়ার সুবাদে। দেশাত্মবোধ না থাকলে এই ক্ষতি উপলব্ধি করা কঠিন।

 

কিন্তু যে ক্ষতি উপলব্ধি করা সহজ তা হলো রেমিট্যান্স যোদ্ধার সরাসরি আর্থিক ক্ষতি। সামান্য টাকা বেশি পাওয়ার লোভে অর্থ পাচারকারীদের হাতে বৈদেশিক মুদ্রা তুলে দিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক-ভাবে কয়েক গুণ বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

 

বিষয়টি একটু পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা দরকার। ধরুন বৈধ পথে ১ মার্কিন ডলার দেশে পাঠালে ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। আর পাচারকারীদের কাছে বিক্রয় করলে পাওয়া যায় ১১৭ টাকা। বেশি পাওয়া যায় ১০ টাকা।

 

অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজারে বেশি পাওয়া যায় ১০০০ টাকা। অন্যদিকে তার এই ডলার দেশে না আসার কারণে দেশে তৈরি হচ্ছে ডলারের ঘাটতি। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে পারছেনা।

 

আমদানির পরিমাণ কমে গেছে। কিছু কিছু আমদানি-কারক খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডলার কিনে সীমিত পরিসরে আমদানি করছে। ফলে তাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। সেই সাথে বাজারে পণ্যের যোগানও কমে গেছে।

 

এর প্রভাব পড়ছে ভোগ্য পণ্যের দামে। প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবার কিন্তু এই কয়েক গুণ বাড়তি দামেই পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

১০ টাকা লাভ করতে গিয়ে ১০০ টাকা জরিমানা দিচ্ছেন। তাদের ভুলের কারণে সমাজের অন্যদেরও এই বাড়তি দামের চাপ মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে।

 

বিষয়টি বুঝতে পারলে হয়তো এমন ভুলটি করতেন না তারা। আমার মনে হয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তা নিয়ে তাদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন নাগরিকদেরও এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ প্রবাসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সঠিকভাবে দেশে আনা গেলে সংকট দ্রুত প্রশমিত হবে।

লেখক: উদ্যোক্তা অর্থনীতিবিদ ও গবেষক
চেয়ারম্যান, এন্টারপ্রাইজ ৩৬০ লিমিটেড ও স্কুল অব অন্ট্রুপ্রেনিউরশীপ ডেভেলপমেন্ট।

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদপুরে জেলা পুলিশের ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্বোধন মতলব দক্ষিণে কিজুনা গ্লোবালের জাপানি ভাষা শিক্ষা শাখার উদ্বোধন ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মতলবের মানসুর সাকি সৌদি আরবে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, ৫ মাসেও মেলেনি সন্ধান প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে মৈশাদীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ গজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে শাহ আলম লস্করকে সমর্থন জানালেন গ্রামবাসী মতলবে উদ্ধার হয়নি রবিন : স্বামীর সন্ধানে ঘাটে স্ত্রী, লঞ্চসহ আটক ২ লংমার্চে কেউ কেউ বক্তব্য দিয়ে ‘বাঘ’ সাজতে চান : মানিক এমপি হাজীগঞ্জ ৯০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার পরও দোকান বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিক আতাউলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জে শহীদ আল্লামা ফারুকী (রহ.) স্মৃতি মেধা বৃত্তির সনদ বিতরণ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি আল আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিলের প্রতিবাদে চাঁদপুর আল-আমিন সোসাইটির সাংবাদিক সম্মেলন কাঁকৈরতলা জনতা কলেজে নবীনবরণ ও নতুন ক্লাসের উদ্বোধন ২৬ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে ওয়াজ মাহফিলে আসছেন গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী ইকরা মডেল একাডেমিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান হাজীগঞ্জের মোল্লা খোরে স্টেডিয়াম ও মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ার অপার সম্ভাবনা ভারতে পর্যটকবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৯ জনের গুলশানে গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই কিশোরের মৃত্যু