
যে কথা হয়নি বলা !


গত ৬৪টি দিনে ৭ জন সদস্য বাইক একসিডেন্ট হয়। বাজার বাড়ির কাজ করতে গিয়ে, ঘরের মানুষকে ঘরে রাখতে গিয়ে, রাতে-দিনে জরুরী ঔষধ বাজার পৌঁছাতে গিয়ে রক্তাক্ত হয় আমাদের ৭ সদস্য। এদের কারও কারও পরিবার এখনও জানেই না সে যে এক্সিডেন্ট হয়েছে। ভয় একটাই দুর্ঘটনার কথা শুনলে ফ্যামিলি থেকে যদি আর কাজ করতে না দেয়!


বাজার বাড়ির কাজ করতে গিয়ে প্রথম দুর্ঘটনার স্বীকার হয় সাদ্দাম-আবির। স্থানীয়রা ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে আসে। হাতে-পায়ে ব্যথা নিয়ে ফুল হাতা জার্সি পড়ে পরদিনও অর্ডারে যায় তারা।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনার স্বীকার শিহাব-জাহিদ। একটি ত্রাণের ব্যাগ পৌঁছে দিতে গৃদকালিন্দিয়া যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। নিষ্ঠুর মানুষগুলো ওদেরকে না ধরে ত্রানের ব্যাগের চাল-ডাল কাড়াকাড়িতে বেশি মনযোগী ছিলো। খবর পেয়ে হসপিটালে ছুটে যাই। ওদের রক্তাক্ত দেহ দেখে স্তব্ধ হই।
জরুরী একটি অর্ডারে বর্ডার বাজার যাচ্ছিলো সদস্য তানজিল রণি। একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে বাইকসহ পড়ে যায় সে। সেই পড়ায় কোমড়ে যে চোট পেয়েছে তা আজও সাড়েনি। রমজান মাসে ছেলেটি কত কষ্টে যে নামাজ পড়েছে তা বলে বুঝানো যাবে না। এখনও খুঁড়িয়ে হাটতে হয় তাকে।

রূপসা রাস্তার মোড়ে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বাইক চালিয়ে আসছিলো তাহমিদ। বিপরিত দিক থেকে আসা একটি বাইক তাকে প্রচন্ড জোরে আঘাত করে। তাহমিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার গায়ের উপরে দু’টি বাইক! স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে যখন ড্রেসিং করা হয় ছেলেটি যেভাবে কান্না করেছিলো তা ভুলার নয়। ওর কান্না দেখে ভেবেছিলাম বাজার বাড়ি আর করবোই না। কারন অন্যের সন্তানকে ডেকে এনে এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোন অধিকারতো আমার নেই।
মিরপুর থেকে ফেরার পথে থামা বাইক হঠাৎ পায়ের উপরে পড়ে রক্তাক্ত ইঞ্জুরি হয় আহমেদ অপু। ড্রেসিংয়ের সময় তার যন্ত্রনার চিৎকার এখনও বুকের মধ্যে এসে লাগে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়া অপরজনের কথা না হয় নাই বললাম। প্রতিবার নামাজের সেজদায় হাঁটুর আঘাত এখনও তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় দুর্ঘটনাটির কথা!
ওরা যখন রক্তাক্ত হতো তখন ওদের শান্তনা দিতাম এই বলে যে, যুদ্ধ করতে আসলে একটুতো রক্তাক্ত হতেই হয়। অন্যের সেবায় নিজেকে সর্বাত্নক উৎস্বর্গ করে, ঘাম-শ্রম-রক্ত ত্যাগের মাধ্যম মহামারির লকডাউনে যে সেবা আপনারা দিয়াছেন তার মূল্য অমূল্য।




























