
মতলবে ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণহীন দুই শতাধিক ট্রাক্টর


মতলব উত্তর উপজেলায় আবারও ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল এক শিশুর। এবার নিহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো. ইয়াছিন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বাগানবাড়ি ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়কে চলাচলকারী ছয় চাকার মালবাহী ট্রাক্টরের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত ইয়াছিন খাগুরিয়া গ্রামের খানবাড়ির আবুল হোসেন খানের নাতি এবং বাবু খানের ছেলে। সে খাগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগুরিয়া গ্রামে একটি ট্রলির নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় ইয়াছিন। তার মাথা ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে স্বজনেরা তাকে শ্রী-রায়েরচর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায় সেখানে অবস্থার আশঙ্কা জনক থাকলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মতলব উত্তরে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত ২১ অক্টোবর সাহেব বাজার-ঠেটালিয়া বেড়িবাঁধ সড়কের সম্ভুখার মোড়ে বালুবাহী ট্রলির ধাক্কায় আক্তার হোসেন খোকন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু। ১ অক্টোবর মতলব ব্রিজে পিকআপভ্যান ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘনিয়ারপাড় গ্রামের তরুণ অহিদুল ইসলাম (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ছেংগারচর বাজারে ট্রলির ধাক্কায় তিন বছর বয়সী শিশু ফারিয়ার মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুগন্ধী এলাকায় ট্রলির ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু এবং তার পাঁচ বছর বয়সী নাতি আহত হয়।
একের পর এক দুর্ঘটনার পরও এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ কতটা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ভারী মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ছয় চাকার ট্রাক্টরগুলো অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পথচারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার মনে করেন, ছয় চাকার মালবাহী দানবীয় ট্রাক্টরের চলাচল বন্ধ করা জরুরি। তার ভাষ্য, এসব যানবাহন সড়ক নষ্ট করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে একদিনে সব যানবাহন বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এই উপজেলায় এ জাতীয় গাড়ি দুই শতাধিক। প্রতি মাসে গড়ে ১০ শতাংশ করে এই গাড়ি ম্যানেজ করে বন্ধ করে দিতে হবে। এই গাড়ির মূল্য ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ১০ শতাংশ করে এই গাড়ি কমিয়ে ফেললেই আস্তে আস্তে বিকল্প হিসেবে পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ মালামালবাহী গাড়ি উদ্যোক্তারা মতলবে নিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দানবীয় ছয় চাকার ট্রাক্টরটিও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


























