
তোমার দেহ যাচ্ছে বাড়ী


“বিনা দোষে সরকার দোষী” এটা বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সমস্যা এবং জ্ঞানহীন কিছু বেহুশ মানুষের উসকানীমুলক বুলি দান। যা সমাজ ও দেশকে বিপথগামী পথে ধাবিত করে। আমি মনে করি করোনা নিয়ে দল বেঁধে বাড়ী ফের ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হওয়া। নিজের ভালটা তো পাগলে বুঝে রে… ভাই। তাহলে করোনার বিস্তার ছড়ানো বা বিপদের কথা কেন বুঝতে চায় না অতি উৎসাহী জনগণ। সরকার তো জনগণের প্রয়োজনে দেশের অনেক বড় ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে লকডাউন চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকার প্রধান নিজেও সচেতনতা মুলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। রাত-দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সচেতনতা মুলক প্রচার অব্যহত আছে। পুলিশ প্রসাশন ভয়াবহ জীবন ঝুঁকি নিয়ে আপনাদেরই সচেতন করেছে। অনেক পুলিশের লাঠিপেটা আইনে লঙ্ঘন হলেও এখন তাহলে সেটা আইনের যথাযত ব্যবহার হওয়া উচিৎ মনে করি। না হয় অসচেতনত মানুষ গুলো দেশ, সমাজ, পরিবারকে ধ্বংস্তুপে পরিনত করবে। বিভিন্ন সমাজিক সংগঠন ও দেশের বড় বড় কোম্পানি গুলো সচেতনতা মুলক বিজ্ঞাপন দিয়েও যাচ্ছেন। প্রতিটি মোবাইলে মেসেজ, রিংটন এলার্ন দিয়ে যাচ্ছে। তবুও কেন বেহুশ মানুষ গুলো দল বেঁধে করোনার জট বাঁধতে থাকে হাটে,বাজারে, গাড়ীতে, লঞ্চে? তাহলে কি আমরা নিজেরাই যাচ্ছি মৃত্যুর মিছিলে? দায়ী কে আমি, আপনি, না সরকার? আপনার হাতের প্রতিট আঙ্গুল আপনাকেই দোষারোপ করছে। আপনি জানেন আপনি বাড়ী যাচ্ছেন, নাকি বাড়ী গিয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছেন?
আরে ভাই কথায় আছেনা- সময়ের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি। এক মিনিট অপেক্ষা আপনার বাড়ী ফেরাকে ব্যহত করবে না। ৩ফিট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা আপনার জন্য বহু পথ পাড়ি দেয়া নয়। বরং এই সচেতনতা আপনি নিজেকে নিজে, দেশ ও পরিবারকে নিরাপদে রাখলেন। আপনার অসচেতনতা দেশের যে, হা হা কার, অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষুধার যে যন্ত্রনা আপনি বুঝার চেষ্টা করেন। কারণ এর অভাব আপনাকে ছঁইতে সময় লাগবে না। হয়তো এই অসচেতনতার জন্য আপনাকেও কাঁদতে হয়তো স্বজন হারানো’র দায়ে নতুবা ক্ষুধার যন্ত্রনায়। এখনি আসুন সচেতনতা মেনে চলি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি। আড্ডা, হাট, বাজার, পরিবহন,লঞ্চে সহ জন সমাগম এড়িয়ে চলি। নিজে সুস্থ্য থাকি। দেশ ও পরিবারকে ভাল রাখি।
তবে প্রথমে লকডাউন দেশের করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও হঠাৎ করে সরকারের লকডাউন শিথিল করাটা সঠিক হয়েছে বলে আমার মনে হয়না। পরিস্থিতি যাই হোক পরিস্থিতির কঠোর নিয়ন্ত্রন ধরে রাখা প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি। তবে এখনো সরকার ও প্রশাসন কঠোর সিদ্ধান্ত নিলে করোনার পরিস্থিতি হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। ঈদে বাড়ী ফেরা মানুষদের এক মাসের আগে ঢাকা ফেরা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। ঢাকায় অবস্থানরত নাগরিকদের ১৪ দিন ঘর থকে বাইর হওয়া নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। এমন কি প্রয়োজন বোধে ঢাকায় ঐ ১৪ দিন জরুরী অবস্থা ঘোষণা করুন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই লাখ অসহায়,কর্মহীন মানুষদের জন্য ১৪ দিনের ত্রান বরাদ্দ রাখুন। করোনা পরীক্ষাগার বুথ অস্থায়ী ভাবে ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থাপন করুন। ঢাকা বা প্রতিটি শহরে মাছ, তরকারী বা নিত্যপণ্যের বড় বাজার বন্ধ করে অস্থায়ী ভাবে মহল্লায় বসানো যেতে পারে। যেমন ঢাকার কাপ্তান বাজারে যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, পল্টন, মালিবাগ,শাহবাগ,আজিমপুর, লালবাগ এলাকার মানুষজন এসে নিত্যপণ্য ক্রয় করে। আমার প্রশ্ন হলো দশটি এলাকার দশজন করোনা রোগী অথবা এক এলাকার একজন করোনা রোগী বাজারে প্রবেশ করে ঘুরা ঘুরি বা বাজার করলো আপনি মনে করেন না করোনার সংক্রমনটি ঐ ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দশটি এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে❓আমাদের মনে রাখা দরকার ঢাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রশাসন, কুটনীতিক,রাজনীতিক নেতাদের বসবাস তাই ঢাকাকে নিয়ন্ত্রন করতে উপরোক্ত বিষয় গুলো ফলো করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আমার ছোট্ট আবেদন এবং নিয়ম গুলো মেনে চলতে ঢাকার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ভাল থাকো বাংলাদেশ।


লেখক- হুমায়ুন কবির বেপারী, নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সাদা কাগজ, ভাইস-চেয়ারম্যান, এশিয়া মানবাধিকার সংস্থা।



























