চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার পর গভীর রাতে ঢিল-পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের নির্বাচিত সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়ি, ইটের তৈরি সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়ায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজী অনিক (২৭) ও তার ভাই কাজী অন্তর (৩০), পিতা- কাজী খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ১০/১১ জন এ হামলায় অংশ নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, দুর্বৃত্তরা অশালীন গালিগালাজ, লুটপাট, হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় কাজী হুমায়ুন কবিরের ছোট ছেলে কাজী মাসুদুর রহমানের স্ত্রী খায়রুন নাহার কলি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে বসতঘর ও জানালায় ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর- ১৩, তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৬।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে ১৮ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে মিথ্যাচার ছড়ায় এবং গ্রামবাসীকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়। পরে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে মামলার এক বিবাদী কাজী ইসমাইল হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর প্রচারণা চালিয়ে আসছে। বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা তার ওমরা হজে থাকার সুযোগে শংকরপুর মাদ্রাসার জমি দখল করে নেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও মোঃ ফারুক হোসেন (৩৭), ফরহাদ (৩৫), আল আমিন (৩৩) ও মামুন (২৭) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
কাজী হুমায়ুন কবির জানান, ২০০৬ সালেও একই পক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি শাহরাস্তি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর ছিল ১৬১, তারিখ ০৬ আগস্ট ২০০৬। এরপর থেকেই একটি পক্ষ তার পরিবারের ক্ষতি করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও শাহরাস্তি মডেল থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।