চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি বসতবাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় মো. ফয়সাল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ ) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ থানার এফআইআর নং–১৬, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬, জি.আর নং–৬০ এর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ৪৫৭/৩৮০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মার্চ বাদী তার পরিবার-পরিজনসহ ঢাকায় অবস্থান করায় তার বসতবাড়িটি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে ৮ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের তিনটি কক্ষ তছনছ করে আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এ সময় আলমারিতে রাখা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার (চেইন, কানের দুল, নেকলেস, লকেট, আংটি ও হাতের চুড়ি, নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা, কয়েকটি মূল্যবান কাপড় ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানার একটি দল এসআই নুর আলমের নেতৃত্বে এনায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. ফয়সালকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রবদ্ধভাবে কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা পূর্ব থেকেই বাড়িটি ফাঁকা থাকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং সুযোগ বুঝে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ফয়সালের বিরুদ্ধে পূর্বে চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৬টি মামলার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি এবং কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল জব্বার বলেন, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল। আমরা এই চুরির ঘটনায় তার সাথে জড়িত অন্যদের ধরার জন্যও অভিযান চালাচ্ছি।