POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

ফরিদগঞ্জে পানি সংকটে হুমকীর মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ, শতাধিক খাল পুনরুদ্ধার ও খননের দাবী

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট - চাঁদপুর | প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬ | সময়: ২:৩৩ অপরাহ্ণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানি স্বল্পতার কারণে হুমকীর মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। কেউ রোপণ করে দুশ্চিন্তায়, কেউ পানি সংকটে করছেন না ইরি-বোরা ধানের আবাদ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলার শাখা খালগুলো প্রতিবন্ধকতা ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ফসলি মাঠে সরবরাহ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। ইতোমধ্যে বিএডিসি, এলজিডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবে ৯৩ টি খাল খননের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। তবে কবে নাগাদ খনন শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী এলাকার তিন পাশে ফসলী মাঠ। এই এলাকার পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের দুটো খাল এখন প্রায় মৃত। পানি সরবরাহ করতে না পারায় এসব মাঠে ইরি-বোরো চাষাবাদ বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পড়ছে।

ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার কোথাও কোথাও সেচ পাম্পগুলো প্রথম পর্যায়ে পানি সরবরাহে শুরু হয় রোপণ কাজ। কিন্তু এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে শাখা খালগুলোতে পানি না থাকায় বিকল্প হিসেবে পুকুর-কূপ ও টিউবয়েলের পানি দিয়ে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন সেচ পাম্প মালিকেরা।

অবৈধ খালগুলো পুরুদ্ধার ও খনন করার দাবী জানিয়ে চাষীরা বলছেন, যথা সময়ে ধানের চারায় পানি না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত ও লাখ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তাদের।

কড়ৈতলী গ্রামের চাষী রহিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় আমরা পানির সংকটে রোয়া দিতে পারিনি ঠিকমতো। কোন রকম রোয়াটা দিছি, পিছে দিয়েই খাল শুকিয়ে গেছে, আমাগো পানি নাই। পরক্ষণে আলিগুলো/ ইরির চারা বইসা গেছে। এরপরে গড়-গন্ধক, ছোট ডিপ দিয়া কোন রকম ধানগুলো জেতা রাখছি। কিন্তু তারপরও কোন নিশ্চিত নাই। আমরা এই ফসল যে উঠাইতে পারুম- এরকম কোন সম্ভাবনা নাই। যদি আল্লাহর যদি কোন ওরষিক দানের উপরে যদি পারি- নতো না।’

স্ক্রীম ম্যানেজরা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আসলে এই বিলে পানি কমপক্ষে আড়াই ইঞ্চি হতে তিন ইঞ্চি পানি থাকার কথা। কিন্তুক খালে পানি না থাকাতে এই বিলে ধানগুলো যায়ে আস্তে আস্তে রোপন করাইছিলাম- আসলে পানি না থাকাতে জ¦ালাগুলো জ¦লি যাইতাছে- এই জন্য মানুষের পুকুর-গড় থেকে পানি সেচ দিয়ে কোন রকম জ¦ালাগুলোরে টিকাইয়া রাখছি। সঠিকভাবে পানি দিতে পারতেছি না আমি।’

কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই গ্রামের এই কড়ইতলী গ্রামের পশ্চিমাঞ্চলে একটা খাল, মধ্যাঞ্চলে একটা খাল। এই দুইটা খালে আমাদের এই স্ক্রীম হইতো দুই টা খালে- এখন স্ক্রীম দুইটা বন্ধ হয়ে গেছে। এই দুটা খাল পুরাইয়া ফালানোয়। যে যার জায়গা দিয়ে খালের উপর ঘর-বাড়ীও করে ফেলছে- বাগান করে ফেলছে।’

ইরি-বোরো চাষী শাহাদাত হোসেন বলেন. ‘ পানি পাইতাছে না, খাল কাটা হইতাছে না। বহুত দিন পর্যন্ত এভাবে পড়ে আছে। খালটা যদি কাটতো আমাদের কৃষকের সবার উপকার হইতো। আমাদের প্রয়োজন, খুবই প্রয়োজন খাল কাটার প্রয়োজন।’

কৃষক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাঠে আমরা ফসল করতাম। এই যে আমি জ¦ালা পালাইছি। এই জ¦ালাগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। মাঘ মাসে আমরা রোয়া দেই, মাঘ মাসে দিতে পারি নাই, পানির কারণে। পানি নাই। প্রতি বছর বছর আমরা এভাবে মাইর খাই। এইবার কোন পানিই পাইনা। সময় মতো আমরা রোয়াও রুকতাম নাই। মাঘ মাস যাইয়া ফাল্গুন মাস যাইতাছে। তারপরও রোয়া রুইতে পারি না। এরকম বহুত ফসলী জমি আছে ছোট-ঘাট, আমরা রুইতে পারি না সময় মতো।’

এখানে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ১শ ৪০ হেক্টর। এরমধ্যে অর্ধেকের মধ্যেই খালে পানি সরবরাহের ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ ৩৭ টি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩৫ টি ও বিএডিসি বিভাগ ২১ টিসহ মোট ৯৩ টি খাল খননের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে জানান বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার।

তিনি বলেন, ‘ফরিদগঞ্জ উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় কড়াইতলি, চরকুমিরা,তারপর বিরামপুর এসব কিছু কিছু মাঠে দেখা যাচ্ছে কৃষকেরা চাহিদা মাপিক সেচ দিতে পারছে না। সেচ দিতে বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় যোগাযোগ করেছেন।

রিভার সাইটে পানি কম থাকায় তারা পাম্প ঠিক মতো চালাতে পারেননি। পরবর্তীতে নদীতে পানি স্বাভাবিক হলে তারা পুরোদমে পানি চালাচ্ছে। অধিকাংশ খালে এখন পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও কিছু কিছু জায়গায় এখনও পানি সমস্যা দেখা যাচ্ছে, খাল ভরাট হওয়ার কারণে। এতে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে, যদি খালে পানি বৃদ্ধি পায় আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে হয়তো কৃষক ভাইয়েরা রোপণ করতে সমর্থ্য হবে।’

জোড়াতালী দিয়ে চালু রাখা হয়েছে চাঁদপুর বাগাদী সেচ পাম্প। ডাকাতিয়া নদীর ৫৮ কিলো মিটারে রিজার্ভের পানি শাখা খালগুলোতে ঠিকমতো সরবরাহ হচ্ছে না। এতে ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের পানি না পাওয়ার অভিযোগ পাচ্ছেন বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর যান্ত্রিক পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের ৬টি উপজেলায় প্রায় আমরা ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য আমরা পাম্প চালু রাখছি। আমাদের কান্টি সাইটে পানির লেভেল আছে প্রায় ২.৭৫ এর উপরে। এবং রিভার্স সাইডে পানি লেভেল আছে প্রায় ভাটার সময় .৬ এর মতো পানির লেভেল আছে। অর্থাৎ আমাদের পাম্পের হেড হচ্ছে ১.৬৭ মিটার।

আমরা আমাদের ডিজাইন লেভেল থেকেও প্রায় .৫ মিটার উপরে আমরা পানি দিচ্ছি।

এরপরও অভিযোগ আসতেছে কিছু কিছু খালে পানি যাচ্ছে না। আমাদের যে রিজার্ভ যেইটা আছে সেই রিজার্ভটা পানি পরিপূর্ণ আছে। এই রিজার্ভের পানিটা যদি শাখা খালগুলোতে দ্রুত পৌঁছানো যায়, তাহলে হয়তোবা কৃষকদের এই সমস্যা অনেকাংশেই দ্রুত মিটবে।

আমাদের এই মেশিনগুলোর বয়স প্রায় ৪৭ বছর। আমরা এগুলো পরিবর্তন করার জন্য আমাদের প্রকল্প ২৩৬ কোটি টাকার একটা প্রকল্প অলরেডি পানি অফিসে প্রেরণ করছি। আশা করছি হয়তো ২-১ মাসের মধ্যে অনুমোদন হবে। তো এটা অনুমোদন হলে আমরা এগুলো চেঞ্জ করতে পারবো।’

এদিকে ৪৭ বছরের পুরোনো বাগাদী সেচ পাম্পগুলো চলছে জোড়াতালী দিয়ে। নতুন পাম্পের জন্য ২৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন