POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মতলবে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে রোটা ভাইরাস নিয়ে দৈনিক ভর্তি হচ্ছেন ২৫০ রোগী, ৮০ শতাংশ দুই বছরের কম বয়সী শিশু, বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক ও ওষুধ

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট - চাঁদপুর | প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ | সময়: ২:৪৩ অপরাহ্ণ

আবহাওয়া পরবির্তনের কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই চাঁদপুরের মতলবের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে রোটা ভাইরাস নিয়ে দৈনিক ভর্তি হচ্ছেন ২শ ৫০শ রোগী। যার ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ দুই বছরের কম বয়সী শিশু।

গত ১৬ দিনে সাড়ে তিন হাজার এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ / তিনগুণের বেশি।

রোগীদের হিমশিমে চিকিৎসা সেবা দিতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত নার্স নিয়োগ এবং পাশাপাশি দ্রুত অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৌসুমী আবহাওয়া পরিবর্তনে রোটা ভাইরাস নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎিসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চাঁদপুরের মতলবের আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিগত সময়ে জানুয়ারী -ফেব্রুয়ারীতে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও এবার ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ২৪ ঘন্টার এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে বেশিরভাগ কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার ৫৮ টি উপজেলা থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ছুটে যান রোগীরা। ২০ ভাগ রোগীই কয়েকঘন্টা চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারেন। তাদেরকে স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধপত্র বিনামূল্যে দেয়া হয়।

প্রথমে পেটে ব্যাথা, তারপর বুমি, জ¦র ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। গ্রাম-গঞ্জে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও নিস্তার না পেয়ে সবাই ছুটছেন আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে।

হাসপাতালে আসা রোগী ও অভিভাবকেরা বলেন,

বাচ্চার ৬ দিন পাতলা পায়খানা। ওইখানে ডাক্তার দেখাইছি-ভালো হয় নাই। সবাই বলছে- মতলবে নিয়ে আসার জন্য. এই জন্য এখানে নিয়ে আসছি। প্রথম শুধু পেট ব্যাথা করতো। বাসায় থেকেই পরে ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিছি। নিয়া খাওয়াইছি- বুমি কমছে, কিন্তু বাথরুম কমে নাই। পরে কুমিল্লার তিতাস হাসপাতালে ভর্তি করাইছি। তবুও বাথরুম কমে নাই। পরে এখানে নিয়া আইছি।

চাটখিল-নোয়াখালী কোহিনূর বেগম বলেন, ‘বাচ্চা আজকে সাতদিন যাবত অসুস্থ। গ্রামে ডাক্তার দেখাইছি- সুস্থ্য হয় নাই। এই কারণে সবাই আসে এখানে- এই কারণে এখানে আসছি। আসার পর থেকে আলহামদুল্লিল্লাহ অনেকটা সুস্থ্য আছে বাচ্চা।’

শরিয়তপুর থেকে আসা রোগীর অভিভাবক রেহানা বেগম বলেন, ‘এখানে আসলেই বসিয়ে রাখে, সিট দিতে দেরি হয়। এমনি উপকার হয়, আল্লাহ দিলে। এখন নাতিন নিয়া আসছি। এখন ডাক্তার দেখতেছে রোগী।’

শিশু যদি চোখ ডেবে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, পানির মতো পায়খানা, কোন কিছু খেতে অপারকতা প্রকাশ, পেট পুলে যাওয়া, ঘন্টায় তিনবার বার বা তার বেশি যদি বুমি করে, পায়খানায় যদি রক্ত যায়, জ্বর বা খিচুনী হয়- তাহলে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার আহবান।

শিশুকে খাবার স্যালাইন, মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন একটি করে বেবি জিংক ট্যাবলেট এক চামচ পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়ানোর পাশাপাশি মায়েদেরকে স্বাস্থ্য সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকেরা বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওরা ৩-৪ দিনের ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে বলে বাহিরে অল-রেডি চিকিৎসা পেয়ে এসেছে- এরকম বাচ্চা শিশুরাই আমাদের এখানে আসছে। যাদের বুমি আসে, কিছু কিছু বাচ্চারা আমরা সামডিহাইড্রেশন পাচ্ছি মানি কিছু মাধ্যমিক মাত্রার পানি স্বল্পতা পাচ্ছি তাদের এবং বুমি থাকে তাদের। তাদেরকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি একবং এই মায়েদেরকে আমরা স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছি- যাতে বাচ্চাদেরকে কিভাবে পরিচর্যা করতে পারে, সেভাবে তারা খেয়াল নিতে পারে।’

হাসপাতালের ড. শেখর চন্দ্র বলেন, ‘বিপদচিহ্নগুলো হলো শিশু যদি পানির মতো পায়খানা করে, একদম নেতিয়ে পড়ে- কোন কিছু খেতে অপারকতা প্রকাশ কওে, শিশুর যদি পেট পুলে যায়, ঘন্টায় তিনবার বার তার বেশি যদি বুমি করে, পায়খানায় যদি রক্ত যায়, জ¦র বা খিচুনী হয়, তাহলে মায়েরা যেকোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবেন।

মায়েদের ক্ষেত্রে আরএকটু পরামার্শ, স্যালাইনকে ঘোলানোর পেছনে আমরা দেখছি মায়েরা ভুল করে। একটা স্যালাইন আধা লিটার পানিতে ঘোলতে হবে এবং সেটা ১২ ঘন্টা ভালো থাকবে।

মায়েদের পরামর্শ স্যালাইন, স্বাভাবিক খাবার, বুকের দুধ -পারিবারিক খাবার খেলে ৫/৭ দিনের মধ্যে শিশু ভালো হয়ে যাবে।’

গেল মাসে শুধুমাত্র কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এক হাজার ও চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার ৬ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শীতের এই সময়ে শিশুদের সাধারণত রোটা ভাইরাস জনিত ডায়রিয়া হয়ে থাকে। তবে আতংকিত হবার কিছু নেই বলে জানান আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আল ফজল খান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে স্যালাইন, ওষধসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত আছে। এর পাশাপাশি আমরা অতিরিক্ত নার্স নিয়োগ করেছি, ডাক্তার নিয়োগ করতে যাচ্ছি। সো- আমাদের দিক থেকে আমরা পরিস্তিতি মোকাবেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এটা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ / তিনগুণের বেশি। আগত রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই দুই বছরের নিচে শিশু। আমরা দেখেছি প্রায় অর্ধেক রোগী এসেছেন কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে। গত একসপ্তাহে হাসপাতালে কোন মৃত্যু নেই। শীতের এই সময়ে শিশুদের সাধারণত রোটা ভাইরাস জনিত ডায়রিয়া হয়ে থাকে। তবে আতংকিত হবার কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করবো। দূর-দুরান্ত থেকে সরাসরি মতলব হাসপাতালে না এসে আপনারা নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে পারেন।

মতলব হাসপাতালে আসলে অবশ্যই প্রতিমধ্যে আপানারা শিশুকে খাবার স্যালাইন ও বুকের দুধ চালিয়ে যাবেন।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে যাবার পথে নোয়াখালী ও শরীয়তপুরের দুই শিশুর মৃতু হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে অবশ্যই শিশুদেরকে খাবার স্যালাইন ও বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন