POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাহাজে সাত শ্রমিক হত্যাকান্ডের এক বছর ধীরগতিতে চলছে মামলার কার্যক্রম, জানুয়ারীতে চার্জ গঠন

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট - চাঁদপুর | প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ | সময়: ৯:১৫ অপরাহ্ণ

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ৭২০ টন ইউরিয়া সার বহন করে বাঘাবাড়ির উদ্দেশ্যে যাবার পথে আল-বাখেরা জাহাজে সাত খুনের ঘটনার আজ (২৪ ডিসেম্বর) এক বছর। জেলার চাঞ্চল্যকর এই মামলার এখনো চার্জ গঠন হয়নি। তবে নৌ- পুলিশের চার্জশীট আমলে নিয়েছে জেলা দায়েরা জজ আদালত।

মামলাটির আলামত ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কারণে ধীরগতি হলেও চার্র্জ গঠেনের পর দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

একটি শার্ট কিনতে আল-বাখেরা জাহাজের লস্কর আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান জাহাজের মাস্টারের কাছে টাকা চান। টানা কয়েক মাসের বেতন না পাওয়া আর ছোট বেলা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ- ক্ষোভে পরিণত হয়ে জাহাজের সবাইকে মেরে ফেলার চক আঁকেন খুনি আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান।

গেল বছরের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মাঝেরচরে জাহাজের মাস্টারসহ সাতজনকে চেতনানাশক ওষুধ খাবারের সাথে মিশিয়ে অচেতন ও পরে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এই আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান। ঘটনার পর র‌্যাব-৬ তাকে বাগেরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করেন। পরে নৌ-পুলিশ তাকে আদালতের অনুমতিতে সাত দিনের রিমান্ডে নিলে সে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

কারো জীবনে যেন এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা আর না ঘটে এমনটাই প্রত্যাশা জাহাজের মালিক ও মামলার বাদী মাহাবুব মোর্শেদের। একাই সাতজনকে খুন করায় খুনির অন্তত সাত বার মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আত্মস্বীকৃত খুনিতো নিজেই শিকার করছে সে- একাই করছে। আর তদন্ত সাপেক্ষে ওটাই পাওয়া গেছে। এখানে আসলে আমার বাড়িয়ে বলার বা কমিয়ে বলার কিছু নাই। এটা হলো তদন্তকারী অফিসার আছেন, তারা অবশ্যই বিজ্ঞ। তাদের তদন্তে যেটা এসেছে, সেটাই মনে হয় সঠিক।

আমিতো চাচ্ছি, ওর মৃত্যুদন্ড একবার হলে মনে হয় -হয় না। ও সাতজন খুনের সাতবার মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত ওর।

ঘটনার কিছুদিন পর তাদেরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা করে দেয়া হাইছে।

আমার এই ঘটনা থেকে বুঝতেছি, আসলেই আমরা শঙ্কিত। এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা আর কখনও কারো জীবনে যেন না আসে, আমরা সবাই চাই সুষ্ঠুভাবে সুন্দরভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করতে। কেউ যাতে এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনার মাঝে না পড়ে।’

জাহাজের লস্কর ইরফানের হাতে খুন হওয়া শ্রমিকেরা হলেন, ফরিদপুরের মাষ্টার গোলাম কিবরিয়া, শেখ সবুজ, মাগুরার গ্রিজারম্যান সজিবুল ইসলাম, লস্কর মাজেদুল ইসলাম, নড়াইলের সালাহউদ্দিন, আমিনুর মুন্সী ও মুন্সীগঞ্জের বাবুর্চি রানা কাজী। একই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও বাক-প্রতিবন্ধি হয়ে পড়েন জাহাজের সুকানী ফরিদপুরের মো. জুয়েল খালাসী।

মেঘনা নদীতে দৈনিক প্রায় চারশ জাহাজসহ সহ¯্রাধিক নৌযান চলাচল করছে। সাত খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত লস্কর ইরফানের দ্রুত দৃষ্ট্রান্তমুলক শাস্তির পাশাপাশি নৌ-পথের নিরাপত্তা বাড়ানো দাবী জাহাজের শ্রমিকদের।

নৌপথের জাহাজের শ্রমিক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘একজন লোকে সাতজন লোককে মারা এটা একটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আর এটার জন্য আমরা খুবই মর্মাহত। একটা লোকের জন্য সাতটা লোকের প্রাণ গেল। তাই আসলে কারো সাথে কারো সু-সর্ম্পক নাই।

আমি চাই- যারা যারা আমরা জাহাজের স্টাফ যারা আছি- আদার্স সবাই যেন সুষ্ঠু-সুসর্ম্পক -ভালো মিলমিশ করে থাকি এটাই।’

আরেক জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া বলেনন ‘আমরা নিরপত্তায় সমস্ত শ্রমিকদের জানের নিরাপত্তা চাই। আমরা দেশের স্বার্থটা যেন বিঘœ না ঘটে, তার জন্য যারা এই ঘটনাটা ঘটাইছে- তাদের শাস্তি যেন হয়- এটাই আমরা চাই। আমাদের ভবিষৎতে যাতে এই ধরণের ঘটনা না ঘটে- এটার জন্য একটা ব্যবস্থা চাই। ’

জাহাজ শ্রমিক লিয়াকত শিকদার বলেন, ‘আল-বাখেরা জাহাজে যেই দুর্ঘটনা ঘটছে- ওইরকম দুর্ঘটনা আমাদের নদী পথে জাহাজ লাইনে যাতে না হয়। দ্রুত সাত খুনের বিচারটা আমরা চাই। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে বিচারে যে অপরাধী , তার শাস্তি হোক। যে মারছে- সে লস্কর, জাহাজের স্টাফ। সে যদি অপরাধ করে থাকে- তাহলে তার শাস্তি হোক। আর নৌ-পথে যাতে ভালো করে চলে- গ্যাঞ্জাম যাতে না হয়, নৌ-পুলিশ থাকে যাতে- সরকারের কাছে এই আবেদন জানাই।’

শ্রমিক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘সাত খুনের মামলা নিয়ে আমিও খুব দুঃখিত। আসলে এই ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আমরা সবাই দুঃখিত। কিন্তু আমরাতো সাতখুন যাতে হইছে- আমরাও তো এই জায়গায় নিরাপদ নাই। যেই ঘাটে আমরা চাই নিরাপদে থাকতে – সন্ত্রাসমুক্ত নৌ-পথ চাই।’

মামলটি আগামী ২৮ জানুয়ারি সার্চ গঠনের ধার্য্য তারিখ। চার্জ গঠনের পর থেকেই ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মূলত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করা হবে। এই মামলাটি দ্রুত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চার্জশীটে স্বাক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যডভোকেট কুহিনুর বেগম।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করতেছি, এই মামলাটা চাঞ্চল্যকর মামলা- লিস্টেট মামলা। তো সে কারণে এই মামলাটা সত্যিকারে এখনো ধীরগতি হচ্ছে না।

এই সেভেন মার্ডারের ভিষেরা রিপোর্টের জন্য – এটা প্রসেসিউর অনুযায়ি পাঠাতে হয়েছে। সেখানে রাসায়নিক পরীক্ষা করে ভিষেরা রির্পোট আসতে হয়েছে, পিএম রিপোর্ট কালেক্ট করতে হয়েছে, স্বাক্ষীদেরকে ১৬১ নিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মামলাটা পুঙ্খানুপূঙ্খানূ তদন্ত করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করে খুব দ্রুতই এই মামলার তদন্ত কার্য সম্পন্ন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশীট দাখিল করেছে।

সেই কারণে এই মামলায় সকল স্বাক্ষীদের টোটাল ৩৮ জন স্বাক্ষীর মোবাইল নাম্বার এখানে দেয়া আছে। মামলার সার্চগঠন হয়ে গেলে স্বাক্ষীদেরকে আমরা দ্রুতই নিয়ে আসতে পারবো। এবং দ্রুতই মামলা নিষ্পত্তি হবে।

তার একটা শার্টের চাহিদা থেকে এমভি আল বাখেরা জাহাজের মাস্টারের কাছে যখন সে একটা শার্ট কিনার জন্য কিছু টাকা চেয়েছিল- তখন সে টাকাটা দেয়নি বা পায়নি। তখন থেকে সে এই সমাজের মানুষদের প্রতি তার একটা ঘৃণা জন্মায়। সমাজের এই মানুষগুলো মানবিক গুণাবলি বা মানবিক মানুষ হিসেবে- সে কোন মানুষই মনে করে না। যার কারণে তার এই মানুষগুলোকে খুন করার মানুষিকতা তৈরি হয় এবং সে তাদেরকে খুন করার উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ওষধ কিনে খাবারের সাথে মিশিয়ে অবচেতন করে মাথায় আঘাত করে জখম করে এই হত্যাকন্ড ঘটায়।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলায় সব্বোর্”চ স্বাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি আশাবাদ প্রকাশ করছি।’

মামলা দায়েরের পর আদালতে ২ জুলাই চার্জশীট জমা দেন হাইমচর নৌ-পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা কালাম খান। তারপর ৬ নভেম্বর মামলাটি আমলে নেন জেলা দায়েরা জজ আদালত।

এদিকে হত্যাকান্ডের পর নিহত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টাকা ও জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করা হয়।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন