চাঁদপুরে আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটছে পরিবারগুলো। চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে ৪৪ বেডের বিপরীতে ভর্তি দেড়শ শিশু। চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বেডের চেয়ে হাসপাতালের ফ্লোর ও বারান্দার ফ্লোরে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বেশি। শিশু পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ঠান্ডা জনিত রোগে শিশুরা আক্রান্ত। হাসপাতালে গিয়ে আবার ঠান্ডার মধ্যে রাত-দিন কাটাতে হচ্ছে। গেল সাত দিনে শিশু ওয়ার্ডে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪শ জন। এদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩ মাস বয়সী এক শিশু এবং খিচুনীতে আক্রান্ত হয়ে ৭ বছর বয়সী এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এই ৭দিনে সুস্থ হয়ে ২শ ১৫ জন শিশু ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
রোগীর অভিভাবকেরা বলেন, ৪/ ৫ দিন ধরে ফ্লোরেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বেড পাওয়া যায় না। শীতে বাহিরে রাত কাটানো কষ্ট হচ্ছে।
অনুমোদিত শয্যার তুলনায় রোগীর এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝেতে এবং হাসপাতালের করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাই সর্বাধিক। মূলত ঋতু পরিবর্তন ও শীতের আগমনের ফলেই শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
নার্সরা বলছেন, নবজাতক থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। সকাল থেকে ৫ জন নার্স সাদ্যমত শিশুদের সেবা দেয়া দিচ্ছেন।
এদিকে বেড সংকট হলেও শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্স পর্যাপ্ত সেবা দিচ্ছেন বলে জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. একেএম মাহবুবুর রহমান। তবে
এই পরিস্থিতিতে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।