চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সদ্য উদ্বোধন থ্রী স্টার কিচেন নামক রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানিতে পচা মাংস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আলীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ‘থ্রী স্টার কিচেন’ নামের রেস্টুরেন্টটি থেকে সরবরাহ করা বিরিয়ানি খাওয়ার পর হাজীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি (LGED) অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে। ওই দিন এলজিইডি অফিসে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রেস্টুরেন্টটি থেকে ৩০ প্যাকেট বিরানি সরবরাহ নেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা বিরানি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বমি, মাথা ঘোরা ও বমিভাবসহ নানা শারীরিক অস্বস্তিতে ভোগেন।
এলজিইডি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ বিরিয়ানি খেয়ে সবাই বমি করে দিয়েছে। এত বাজে গন্ধ ছিল যে মনে হচ্ছিল মাংস পচে গেছে। খাওয়ার অযোগ্য ছিল।”
অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও অফিস কর্তৃপক্ষ রেস্টুরেন্টটির ব্যবস্থাপকদের অবহিত করে। পরে ‘থ্রী স্টার কিচেন’-এর প্রতিনিধি গিয়ে পচা বিরিয়ানির প্যাকেটগুলো ফিরিয়ে নেয় এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেস্টুরেন্টটি সম্প্রতি জমকালো উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছিল। কিন্তু উদ্বোধনের অল্পদিনের মধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তা অবহেলার এমন ঘটনায় তাদের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “খাদ্যে পচা উপকরণ ব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর শাখাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা বিষয়টি যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মালিক সোহেল বলেন, “আমরা আসলে এই অর্ডারটি নিতে চাইনি। তাদের অনুরোধে নিতে হয়েছে। মাংস আমরা বাজার থেকে কিনে এনেছিলাম এবং খুব অল্প সময়ে ডেলিভারি দিয়েছি। পরে তারা আমাদের জানায় যে সমস্যার হয়েছে এবং ৭ প্যাকেট ফেরত দেয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়ে দিই।”
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে রেস্টুরেন্টটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অন্যান্য খাবারের দোকানগুলোর স্বাস্থ্য ও মান যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।