মুজিব বর্ষ উপলক্ষে “বাড়ছে সেবার বহর, গ্রাম হবে শহর” এই শ্লোগান নিয়ে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোগে মাসব্যপী পালিত হচ্ছে ই-সেবা ক্যাম্পেইন। এটুআই ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে ১০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে পালিত হচ্ছে এ ক্যাম্পেইন। তারই ধারাবাহিকতায় চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মাসব্যাপী বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগনকে সেবা প্রদানের আহবান করেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম।
এসব ডিজিটাল সেন্টারের বদৌলতে বিভিন্ন দফতরে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি লাঘবে লাল ফিতার দৌরাত্মকে জাদুঘরে পাঠিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ তথা ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ফলে গ্রাম-শহরের দূরত্ব গুছিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা পৌঁছেছে সকলের হাতের মুঠোয়।
জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশকে বাস্তবে রূপদান করতে ২০১০ সালে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র নামে (বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার) দেশের সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় যাত্রা শুরু করে ই-সেবার এ কার্যক্রম।
বর্তমানে এসব সেন্টারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ২৫০ টির অধিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, আউটসোর্সিং, অডিও রেকর্ডিং, ভিডিও বিজ্ঞাপন, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন ফি জমা, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, অনলাইনে চাকরির আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইন কপি প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, জমির খতিয়ান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, সকল প্রকার প্রত্যয়ন পত্র, ওয়ারিশের আবেদন, ব্যাংকিং সুবিধা, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার আবেদন, ভিজিডির আবেদন।
ওই ইউনিয়নের আয়নাতলী গ্রামের হজ্বযাত্রী নূর মোহাম্মদ (৬৫) জানান, অ্যাঁই বুড়া বয়সে এয়ান তন পাসপুটের দরকাস্ত ও টেয়্যা জমা দিছি। শেখের বেটির কারণে বাইত্তন বই মক্কা-মদিনা যানের সুযুক হাইছি।(আমি বৃদ্ধ বয়সে এখান থেকে পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমা দিয়েছি। শেখ হাসিনার অবদানে বাড়ির পাশে থেকে হজ্জের আবেদনের সুযোগ পেয়েছি।)
একই গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবক শেখ ফরিদ জানান, ইউডিসি থেকে নামমাত্র ফিতে সরকারী চাকরির আবেদন করেছি। এখান থেকে সহজে যেকোন চাকরির আবেদন করা যাচ্ছে।
চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মোঃ আবুল বরাত সবুজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশকে বাস্তবায়নে এটুআই প্রকল্পের মাধ্যমে এ সেন্টারগুলো ব্যপক ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণকে ই-সেবা সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং ডিজিটাল সেন্টারের সেবা গ্রহণে মাসব্যাপী ‘মুজিব শতবর্ষ ই-সেবা ক্যাম্পেইন-২০২০’ পালনের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে যে কোনো নাগরিক সেবা নিতে পারবে।
এছাড়া জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সকল সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে যে কোনো ডিজিটাল সেবা স্বল্পমূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউডিসি ক্যাটাগরিতে পুরষ্কৃত হয়েছে।