দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত একটি হিন্দু উৎসব। এটি সারা বিশ্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বারা পালিত হয়, তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা, বিহার, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ (পূর্বাঞ্চল) এবং বাংলাদেশে ঐতিহ্যগত বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। এটি বাংলা বর্ষপঞ্জির আশ্বিন ও কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপূজা মূলত দশ দিনের উৎসব। যার মধ্যে শেষ পাঁচটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। আশ্বিনের নবরাত্রির পূজা শারদীয় পূজা এবং বসন্তের নবরাত্রির পূজা বাসন্তিক বা বসন্তকালীন দুর্গাপূজা নামে পরিচিত।

এবার দেবী দুর্গাকে বরণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূর্গাপূজার মন্ডপে ইলিশ মাছ, জাল, জেলে, জেলে কারাগার ও সাম্পান নৌকায় সজ্জিত হলো ‘ইলিশের বাড়ী চাঁদপুর’। ব্যাতিক্রমী এমন পূজা মন্ডপ চাঁদপুরের পুরানবাজার এলাকার দাসপাড়া সর্বজনীন কালী মন্দিরে।
আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর পূজার আরাধনার পাশাপাশি একটি সামাজিক বার্তা দিয়ে আসছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীর একমাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিপুন কারুকাজে সজ্জিত এই পূজা মন্ডপটি।

মা আসছেন জীবনের বার্তা নিয়ে/ নদী বাচুক, ইলিশ ফিরুক ঘরে। জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জালভরে- এমন প্রতিপাদ্যকে নিয়ে উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা বিলিয়ে দিচ্ছে দাসপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ‘ইলিশের বাড়ী চাঁদপুর’ নামকরণে ব্যাতিক্রমী দূর্গাপূজার মন্ডপটি সাজিয়ে নজর কেড়েছে ভক্তবৃন্দের।
নানা রঙ্গের বাতি ও ডেকোরেটরের কাজে পূজামন্ডপটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করার চেষ্টা করলাম। কটশীট দিয়ে তিন সাইজের সাতশ ইলিশ, জেলে, জাটকা ইলিশ, মা ইলিশ, কারাগারে অপরাধী জেলে, সাম্পান নৌকা দিয়ে জেলেদের মাছ ধরা, নদী, জাল, ক্রেতার ইলিশ মাছ কেনা-বেচা, ইলিশ চত্ত্বরসহ ফুটিয়ে তোলা প্রাকৃতিক নানান দিক। ইলিশময় পুরো এই সাজসজ্জাময় মন্ডপটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইলিশের বাড়ী চাঁদপুর।’ আগেও এই মন্ডপে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষ নিধন ও পাখি রক্ষা নিয়ে পূজার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কথা হয় মন্ডপের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাসের সাথে। তিনি এ পূজামণ্ডপটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ১৭ বছর ধরে। নদীমাতৃক এই চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষা করতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যায়ে এবার এই মন্ডপটি সাজানো হয়েছে। আগামীতে সামাজিক সচেতনতার জন্য আরো ভালো কিছু বার্তা দিতে চান মন্দির কমিটির সভাপতি।