শাহরাস্তি উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের প্রস্তুতি গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঈদগাহের পাশে নালা ও এলাকায় সরকারি খাস সম্পত্তি থাকা স্বত্তে¡ও ঈদগাহের অংশে গৃহ নির্মাণ মানতে নারাজ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
শত বছরের এই ঈদগাহ এলাকার ঐতিহ্য। সেখানে বসতি গড়ে উঠলে মাদ্রাসা ও ঈদগাহের জন্য শোভনীয় হবে না মর্মে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. হাতেম আলী, ইউনুছ, তাফাজ্জল হোসেন ও নুর নবী একটি আবেদন করেছের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
![]()
চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩১১নং দাগে সরকারী ভূমি তাদের অর্থে ও স্বার্থে বহু টাকা খরচ করে ঈদগাহ এবং মাদ্রাসার জন্য ডোবা ব্যবহার করছে। এই ঈদগাহে প্রায় দশ হাজার লোকের জামায়াত হয়ে থাকে। এই মাঠে মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে জাতীয় সংগীত, খেলাধুলা, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে। এখানে যদি ২৩১১ দাগের ভূমিতে ঘর বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া হয়ে থাকলে মাদ্রাসার ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্ষতি সাধিত হবে বলে উল্লেখ করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরো উল্লেখ করেছেন, ২৩১১ দাগের পরিবর্তে ২৩৫৪ বা ২৩৮২ দাগে সরকারের খাস খতিয়ানে সম্পত্তি রয়েছে। সেখানে ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। সেই সাথে এলাকার জনগণের ঈদগাহ, মাদ্রাসা, বাৎসরিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলের কোনরূপ বেঘাত ঘটবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ঈদগাহে গৃহ নির্মাণের বিষয়টি আমি জেনেছি। কিন্তু এখানে আমার কোন হাত নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভালো জানেন।
সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের তহসিলদার আব্দুল করিম ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, ঈদগাহে গৃহ নির্মাণ হবে না। আর যেখানে সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেটা আমাদের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন।
জানতে চাইলে রোববার সন্ধ্যায় শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মিরা মুঠোফোনে বলেন, শোরসাকে ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণের বিষয়ে জায়গা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
