দীর্ঘ এক যুগ ধরে করছেন চুরি। ধরা খেয়ে কয়েকবার গণপিটুনি খেলেন, মুচলেকা দেওয়ার পরেও চুরি করা বন্ধ করেনি। চুরি করতে গিয়ে পুলিশের তাড়াও খেয়েছেন। কয়েকবার পুলিশের কাছে আটকও হয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার পরেও চুরি করছেন। বলছি ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের কামাইল্লা চোরার কথা, সবার কাছে সে এক নামেই পরিচিত।
তার চুরি বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসির সব চেষ্টা ব্যর্থ, অতিষ্ঠ হয়ে আছে এলাকাবাসি, কোন অবস্থাতে চুরি বন্ধ করতে না পেরে প্রায় দুই’শের অধিক স্থানীয় জনসাধারণ তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চুরি, মাদক চোরাচালান ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এলাকার বহু পরিবার তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের মালের নিরাপত্তা আজ চরমভাবে বিঘ্নিত।
গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষে তরুন উদ্যোক্তা ও সংগঠক মো. মাহিদুল ইসলাম অভি’র নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর আগে সকালে অফিসার ইনচার্জের কাছে অনুলিপি প্রদান করেন।
স্মারক লিপির মাধ্যমে জানা যায়, কামাল ইতিপূর্বে কড়ৈতলী বাবুর বাড়িতে চুরির সময় ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়, তারপর পাটোয়ারী বাড়িতেও একইভাবে ধরা পড়ে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। তবুও সে সংশোধন হয়নি। সর্বশেষ কড়ৈতলী উদয়ন যুব সংঘের ক্লাবে চুরির ঘটনার মূল হোতা হিসেবেও সে চিহ্নিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হাঁস, মুরগি, গবাদি পশু, টিউবওয়েল, অটোরিকশার ব্যাটারি, ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ন চুরি এবং রাস্তায় পথচারী আঁটকিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানান অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে কামালকে স্থায়ীভাবে কড়ৈতলী এলাকা থেকে বের করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। কামাল শুধুমাত্র চিহ্নিত চোরই নয়, সে একজন কিশোর গ্যাং নেতা। তাই কামাল সর্দারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী স্মারকলিপি প্রদান করে। কড়ৈতলী গ্রামের ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছে এই চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কামাল সর্দারের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও গ্রেপ্তার কার্যকর করা। তার কিশোর গ্যাং ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ভিত্তিক তদন্ত শুরু করা। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা কর্তৃপক্ষের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।