চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বেড়া দিয়ে আধা কিলো মিটার রাস্তা সংস্কার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে জহিরাবাদ ইউনিয়নের নেদামদী মাথাভাঙ্গাসহ ১০ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানান, ৫০ বছর পর উপজেলা প্রশাসন থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জামতলা মজুমদার বাড়ী হইতে তপাদার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুন:নির্মাণের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। রাস্তাটির কাজ শুরু হওয়ার পর গেল শনিবার মজুমদার বাড়ীর ইব্রাহীম মজুমদার, রফিক মুন্সী, ওচমান ও ওমর মজুমার গংরা বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
সোমবার সকালে রাস্তাটি সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখার দাবীতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানববন্ধন করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মজুমদার বাড়ীর ইব্রাহীম মজুমদার, রফিক মুন্সী, ওচমান ও ওমর মজুমার গং। শনিবার তারা রাস্তার কাজ শুরু হওয়া দেখে বেড়া দিয়ে দেয়।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আধা কিলো মিটার রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় দশ গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ। এই রাস্তা দিয়ে নেদামদী-মাথাভাঙ্গা গ্রামের বাহিরে ইউনিয়নের দক্ষিণ এখলাছপুর,বরইকান্দী, বালুয়াকান্দি, কাজিকান্দি, আমিনপুর, হাশেমপুর, নয়াকান্দি গ্রামে বাসিন্দারা ব্যবহার করে আসছে।
জহিরাবাদ ইউনিয়নের বরইকান্দি থেকে পাঁচানি সড়ক। প্রায় ৫ কিলোমিটার। অথচ এই রাস্তাটির দুই পাশে পাকা সড়ক। আধা কিলো মিটার কাঁচা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিকদার বলেন, ৫০ বছর আগ থেকে রাস্তাটা চালু। ১৭/১৮ বছর ধরে রাস্তার বরাদ্দ পায়। আক্কাছ চেয়ারম্যান জিজ্ঞাসা করলে শুধু বরাদ্দ হয় শুণেছি। কিন্তু বরাদ্দটা কোনদিকে যায় বুঝতে পারি না। এখন বরাদ্দ আইছে আস্তে আস্তে কাজ শুরু হলো। আমরা এতোগুলো পরিবার একটা গাড়ী নিয়ে আসতে পারি না। এখন রাস্তাটা বেড়া দিয়া রাখছে। আমরা চাই রাস্তাটা হোক।
প্রবাসী ফয়েজ আহমেদ বলেন, মালয়েশিয়া থাকি। তিনমাস পর পর আসি। রাস্তাটাকে সরকারী ভাবে সংস্কার করতে চাচ্ছে। বিশেষ করে মজুমদার বাড়ীর তারা ষড়যন্ত্র করে রাস্তাটি করতে দিচ্ছে না। বিদেশ থেকে আসলে মালামাল কাঁদে নিয়ে বাড়ীতে ঢুকতে হয়।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে জহিরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করেছি। বরাদ্দ পেয়ে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে। রাস্তা হওয়ার খবরে সবার মাঝে খুশির বার্তা বয়ে যায়। অথচ কাজের তিন দিন না যেতেই মজুমদার বাড়ীর লোকজন রাস্তাটিতে বেড়া দিয়ে প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
প্রকল্পের ইউপি সদস্য সভাপতি রোকেয়া বেগম জোসনা বলেন, মজুদার বাড়ী থেকে তপাদার বাড়ীর রাস্তাটি নির্মাণাধিণ। হঠাৎ করে দুই দিন ধরে একটা পরিবার বেড়া দিয়া রাখছে। এখন তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে রাস্তাটি করতে হবে বলে জানান তিনি।
জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজটি শেষ করতে স্থানীয়দের নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি।