কোরবানির ঈদকে ঘিরে চাঁদপুরের আট উপজেলায় দুই শতাধিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য স্থান ইজারা দিয়েছে প্রশাসন। চলতি সপ্তাহ থেকে জমে উঠছে কোরবানীর হাটগুলো। জেলায় চার হাজার খামারী ইতোমধ্যে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা গবাদিপশু নিয়ে ছুটছেন হাটগুলোতে।
কোয়ালিটি ধরে রাখতে পশুর খাদ্যে ব্যবহার করছেন দেশে উৎপাদিত কাচা ঘাস, খড়, ভুট্টা ভাঙ্গা, ভুসিসহ অন্যান্য দানাধার খাদ্য। ছোট-মাঝারী-বড় গরুর মধ্যে মাঝারী সাইজের গরু বেশি পছন্দ ক্রেতাদের।
কোরবানি চাহিদা পূরণে সারা বছর নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গবাদিপশু প্রস্তুত করলেও শঙ্কা বাড়ায় ভারতীয় গরু। শেষ মুহূর্তে বাজারে ভারতীয় গরু চলে আসলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় খামারীদের।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও খামারী হাজী মোজাম্মেল বলেন, খামারে সব ধরণের গরু আছে। এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গরু আছে। এগুলো সম্পন্ন অর্গানিকভাবে ও নেচারালভাবে গরু লালন পালন করা হয়। আমার গরুর প্রধান খাদ্য হচ্ছে ঘাস। ৯০ ভাগ ঘাস খাওয়াই। ১০ ভাগ যেই দানাধার খাবার খাওয়াই, সেটা আমি নিজস্বভাবে ভাংগাই নিয়া আসি। এ খামারের ম্যাক্সিমাম ক্রেতা পারমানেন্ট। কারণ হচ্ছে কোয়ালিটি ভালো হওয়াতে একজনে এই বছর একটা নিলে পরের বছর তার মাধ্যমে আরো ৪/৫ টা গরু বিক্রয় করা যায়।
হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, গরুর দাম এবার বেশি। ইন্ডিয়ান গরু না আইলে সামনে আমাগো ব্যবসা হইবো। আর ইন্ডিয়ান গরু বের হইলে আমাগো ব্যবসা ধ্বংস হইয়া যাইবো। আমরাতো যশোর বেনাপোল থেকে কিনি।
আরেক ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, বাকিলা বাজারে যশোর, খুলনা থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা আসেন। থাকা-খাওয়া সবকছিুর ব্যবস্থা এবার ইজারাদারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য হাসিল সীমিত, এবং কোন জায়-জামেলা যেন না হয়-সবকিছুই খেয়াল রাখা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, চাঁদপুরে ঈদুল আযহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬২ হাজার ৯৮টি পশু। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৭৬ হাজার পশু। পশুর সংকট থাকবে ১৪ হাজার। ৫’শ খন্ডকালীন ব্যবসায়ী এই চাহিদা পূরণ করবে। অপরদিকে ভারতীয় গরু বাজারে আসার কোন সম্ভাবনা নেই।
কর্মকর্তা বলেন, পারমানেন্ট খামারি যারা অল এরাউন্ড সিজনে গরু পালন করে তাদের যে গরুর সংখ্যাটা পেয়েছি বিভিন্ন উপজেলা তথ্যের সামারি করে ৬২ হাজার ৯৮টি। কিন্তু পপুলেশন ভিত্তিতে একটা চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। নির্ণয়ের ফলে দেখা গেল জেলায় দরকার বা চাহিদা হলো ৭৬ হাজার ৩৫৪ টি। এই অনুসারে আমাদের প্রায় ১৪ হাজারের একটা ঘাটতি আছে। জেলায় প্রায় ৫০০ জনের মতো খন্ডকালীন ব্যবসায়ী আছে। তারা যেখানে থেকে গরুগুলা সারপ্লাস থাকে ওই অঞ্চলের গরুগুলা নিয়ে আসে এখানে ব্যবসা করে। এই অনুসারে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এ ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।
এদিকে জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেন ও ক্রেতার নিরাপত্তায় পুলিশের টহল ও গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাখা হয় বিশেষ টিম। চলতি বছর জেলায় গরু উৎপাদন হয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৭টি। মহিষ ২১৭, ছাগল ১৮ হাজার ৪৫৮, ভেড়া ৮৩০ ও অন্যান্য পশু ৯৬টি।