চারপাশে মেঘনা ও ধনাগোদা নদী বেষ্টিত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা। নদী ভাঙ্গনে চারপাশেই হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি আর বসতভিটাসহ অবকাঠামো। এবার বর্ষার আগেই তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় নদী পাড়ের মানুষের মাঝে বইছে আতংক আর শঙ্কা।
নদী ভাঙ্গন কবলিত উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে জহিরাবাদ, ফরাজিকান্দি, এখলাছপুর, মোহনপুর, ষাটনল, কলাকান্দা, ফতেহপুর পূর্ব ও সুলতানাবাদ ইউনিয়ন। ইতোমধ্যে এসব এলাকা রক্ষায় স্থাপনকৃত ব্লক ও জিও টেক্সটাইল ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
হুমকিতে রয়েছে লঞ্চঘাট বাজার, কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কয়েক সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘর। বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, ছোট থেকে দেখতেছি নদীটা ভাঙছে। কিছু কাজ করছে সরকার এখন আবার ভাঙা শুরু হইছে। পাশেই বেড়িবাঁধ আছে, যদি এভাবেই ভাঙা শুরু হয় কিছুদিনের মধ্যেই বেড়িবাঁধে চলে যাবে। বেড়িবাঁধ রক্ষা না হলে পুরো মতলববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন আশা করি এই বেড়িবাঁধ যেন বাঁচানো যায় সেই ব্যবস্থা করবে সরকার।
মরিয়ম বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই বুঝ হবার পর থেকেই দেখছি নদী ভাঙছে। বাপ দাদা থেকে শুনেছি বাড়ি এখান থেকে ওখানে করেছে। এখন নদী এইযে বাঁধ দিয়েছে বাঁধ থাকে না। কত নিরীহ মানুষ বাড়িঘর করেছে, যদি নদী এভাবে ভেঙে যায় তাহলে মনে করেন বেশিদিন মানুষ থাকতে পারবে না। স্কুল আছে, কাছে মসজিদ আছে সবকিছুই আছে। এখন, এই মানুষ যাবে কই। এইতো দুই একদিন আগে এদিক দিয়ে ভরা ছিল। এই বিকেলবেলা দেখে গিয়েছি ভালো, সকালে ঘুম উঠে দেখি তলাই গেছে। আমরা চাই বর্ষার আগে খুব তাড়াতাড়ি দ্রুতভাবে আমাদের নদীর ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করে।
আব্দুল হাই নামের আরেকজন বলেন, ত্রিশ হাজার লোকজন যাতে তাদের বাড়িঘর রক্ষা হয়। যাতে এই ভাঙন রোধ করার জন্য ব্লকের মাধ্যমে এবং আপাতত এই বর্ষাটা রোধ করার জন্য জিও ব্যাগ বস্তা ফেলে এই এলাকাটা রক্ষা করা হয়, ত্রিশ হাজার লোকজনরে রক্ষা করা হয় সেই ব্যবস্থা নিলে এই এলাকার লোকজন কৃতজ্ঞ থাকবো।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, মতলব উত্তর বেড়িবাঁধ বেষ্টিত এবং এখানে স্বাভাবিক ভাবেই নদী ভাঙনের ঝুঁকি সবসময়ই ছিল এবং সম্প্রতি আমাদের বাগানবাড়ি সাদুল্লাপুর এবং ষাটনলী ইউনিয়নের বেশ কিছু পয়েন্টে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ফরাজিকান্দি এবং জহিরাবাদ ইউনিয়নে বেশ কিছু ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেহেতু নদী ভাঙন প্রতিনিয়তই ঘটছে। আমরা দেখছি পানি উন্নয়ন বোর্ডও এই বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। আশা করছি যে খুব দ্রুতই সেখানেও আমরা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ জানান, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প আছে এখানে, এখানে যে বেড়িবাঁধটা আছে ভাঙন শুরু হলে অবশ্যই বেড়িবাঁধে ইফেক্ট পরবে। সেটা যেন না পরে আমরা এজন্য দ্রুত গতিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা মোটামুটি ১৫ টির মতো লোকেশন অলরেডি আইডেন্টিফাই করেছি এবং আরো কিছু লোকেশন আমরা দেখছি যেগুলো ভাঙন প্রবণ। আমরা এই লোকেশনগুলা অলরেডি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠয়েছি এবং আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। কিছু কিছু লোকেশনের জন্য আমরা বরাদ্দ পেয়েছি, এবং শিঘ্রই কাজ শুরু হবে।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮ ইউনিয়নই নদী ভাঙ্গনের শিকার। চলতি বর্ষা মৌসুম নদী ভাঙ্গণ রোধ করার জন্য জিও ব্যাগের বস্তা পেলে এলাকাগুলো রক্ষার দাবী বাসিন্দাদের।