চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পুলিশ কর্মকর্তার চুরি যাওয়া সরকারি পিস্তল-গুলি গত ৫ দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থারা। এতে পিস্তল-গুলি চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন দুই চোরের ছবি শনাক্ত করা গেলেও এখনো তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলে ঘটনার দিনের ওই সিসিটিভির ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে মুখে দাড়ি, পাঞ্জাবি পরা এবং চেক শার্ট পরা দুই যুবক ফরিদগঞ্জ বাজারের পশ্চিম মাথায় থানার সামনের সড়ক দিয়ে ডাকবাংলোর দিকে যায়। তার একটু আগে মূল সড়কের পাশে এবং থানা থেকে মাত্র ১শ গজের মধ্যে চারতলা বাড়িতে প্রবেশ করে তারা। পরে কয়েক মিনিটের মাথায় একই সড়ক ধরে বাজারের দিকে চলে যায় তারা।
বেশ কয়েকটি সূত্র জানাগেছে, আগে থেকেই হয়তো ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে জানাশোনা ছিল যুবকদের। যে কারণে বাসায় তার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে পিস্তল, গুলি ও কথিত নগদ টাকা নেওয়ার মতো এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সংগ্রহ করা ছবির ওই দুই যুবকের পরিচয় কেবল পুলিশ কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া নিশ্চিত করতে পারেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ-আলম জানান, ঘটনায় মাঠে কাজ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ থেকে দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদেরকে হাতেনাতে দরিয়ে দিতে পারলে একলক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য: থানা থেকে মাত্র ১শ গজের মধ্যে চারতলা একটি বাড়িতে থেকে গত ৫-মে-২০২৫ইং তারিখ সোমবার ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাড়া বাসার দরজার তালা ভেঙে দুটি ম্যাগজিনসহ গুলিভর্তি সরকারি পিস্তল নিয়ে যায় চোর। পরে তিনি বাসায় গেলে দেখেন দরজার তালা ভাঙা। তিনি দাবি করেন, চোরের দল বাসায় থাকা ব্রিফকেস ভেঙে পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলিভর্তি দুটি ম্যাগজিন এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। জানা গেছে, ওই বাড়িতে ফরিদগঞ্জ থানার আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য ভাড়া থাকেন।
সরকারি পিস্তল চুরির ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা জানাজানি হলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।