যাতায়াতে জনদুর্ভোগে ফরিদগঞ্জ বালিকা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দ। প্রতিষ্ঠানটি ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের একেবারে নিকটে। বাসস্ট্যান্ড লিংক রোড হয়ে প্রবেশ করতে হয় বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তাটি নিচু এবং ঢালু হওয়াতে পানি স্কুলের রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিদ্যালয়ের দিকে যায়।
অন্যদিকে পৌরসভার নতুন ড্রেন চালু এবং পুরাতন ড্রেন বন্ধ হওয়ার কারণে বাসস্ট্যান্ডের সমস্ত ময়লা পানি বিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রতিদিন ময়লা পানির উপর দিয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পরিমান বেড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত রোগ এবং খোসপাছড়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে। প্রতিকার চেয়ে প্রধান শিক্ষক প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।
ভুক্তভুগীদের প্রশ্ন: বলা হয়ে থাকে বিদ্যালয় সভ্যতার ফুল ফুটায়। যে সভ্যতায় নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়, সেখানে কীভাবে ফুল ফুটবে?
ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের শত শত দোকান, অফিস, দু’টি হাসপাতাল, মাদ্রাসা, হোটেল, গ্যারেজ এর সমস্ত ময়লা পানি বিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে পানি পৌরসভার ড্রেন দিয়ে ডাকাতিয়া নদীতে ফেলা হতো। পুরাতন সে ড্রেনটি দীর্ঘদিন পরিস্কার না করাতে ময়লা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং লিক করে বিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তার উপর নতুন ড্রেনের সাথে পুরাতন ড্রেনের সংযোগ না দেওয়াতে এই দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। মূলত পৌরসভার অপরিকল্পীত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পৌরবাসীকে।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টারটিও এখানে। মাঠের পশ্চিম পাশে বালিকা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব পাশে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখানে থেকে প্রশিক্ষিত হয়ে শিক্ষকরা শিশুদের পাঠদান করে থাকেন। দু’টি প্রতিষ্ঠানের একমাত্র রাস্তাটি সংস্কার করার কেউ নেই। বাসস্ট্যান্ড এলাকা হওয়ায় বিদ্যালয়টি গুরুত্ব অনেক। সাবেক মেয়রসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কেউই রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব নেননি। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সদর ওয়ার্ডের এই প্রতিষ্ঠানটি চরম অবহেলার শিকার। নিম্ন আয়ের অভিভাবকের সন্তানরা এখানে পড়ছে বলে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে?
ফরিদগঞ্জ বালিকা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ১৯৬৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হলেও অবহেলার শিকার প্রতিষ্ঠানটি। পানি নিঃস্কাসনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের সমস্ত ময়লা পানি বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তাটির উপর দিয়ে যাচ্ছে। নোংরা পঁচা দুর্ঘন্দযুক্ত পানি মাড়ি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয়। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। রাস্তাটি যদি উঁচা করা যেত তাহলে এই দুর্ভোগ হতে আমরা রক্ষা পেতাম। আমি প্রতিকার চেয়ে ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত করেছি। তিনি প্রথমে আসস্ত করলেও পরে হতাশ করলেন। নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আরো একটি দরখাস্ত দিয়েছি।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টার’র ইন্সট্রাক্টর তারেক নাথ মল্লিক বলেন, ‘বর্ষাকালে রাস্তাটির অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখনতো চলাচলই করা যায় না। ৫ আগস্টের আগে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রাস্তাটির বিষয়ে বলেছি। তখন তিনি তৎকালিন মেয়রকে বলেছেন কিন্তু তিনি কিছুই করেননি। কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেব পৌর প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও করেছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আফতাবুল ইসলাম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা হতে হবে উন্নত, সুন্দর এবং সমস্যাহীন। অথচ এই রাস্তাটি সাধারণ মানুষেরই চলাচলের অনউপযোগী, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত নয়। রাস্তাটি সংস্কার করা অতীব জরুরী।
ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম জাহিদ হাসান বলেন, পূর্বে আমরা যে প্রকল্প গুলো হাতে নিয়েছি আগে সেগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। তারপর বার্ষিক প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা উক্ত রাস্তাটির কাজ খুব দ্রুতই করে দিবো।