চাঁদপুর সদর উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামে বহিরাগতদের মহড়ার আতংকে গ্রামবাসী। গেল ৩ মার্চ রাতে কামরাঙ্গা গ্রামে মানিক শীল ও তার দুই ভাই চন্দন শীল আর অর্জুন শীলের সম্পত্তি বিরোধের জেরে বহিরাগত কিশোর গ্যাং ঢুকে পড়ে। পরে গ্রামবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মানিক শীল তার ভাইদের সম্পত্তির দখল বুঝে না দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মাঝে হট্টগোল হয়। ঘটনার রাতে ফোন করে বহিরাগত কিশোর গ্যাংদের মুঠফোনে খবর দেয় মানিক শীলের মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিক শীলের দুটো বসতঘরের পিছনে তার দুই ভাইয়ের বসত ঘর। হামলার ঘটনায় চন্দন শীল ও অর্জুন শীলের পরিবারের ঘরের টিন ও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। বাড়ীর অন্যান্য পরিবারও মানিক শীলের পরিবারের দাপটে আতংকে রয়েছে। যারাই ভুক্তভোগী দুই ভাইয়ের পক্ষ নিয়েছে, তারাই হয়েছেন মামলার বিবাদী।
জানতে চাইলে চন্দন শীল ও অর্জুন শীল বলেন, বিশ বছর ধরে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বড় ভাই মানিক শীলের দখলে। একাধিকবার শালীসী বৈঠক হয়েছে। গেল পতিত সরকারের আমলেও মানিক শীলের দাপুটেপনায় উদ্ধার হয়নি সম্পত্তি। সম্প্রতি একটি বৈঠকে এলাকাবাসী মানিক শীলকে এক শতাংশ সম্পত্তি বেশি দিয়ে বাকী অংশ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। পরে তারা মানিক শীলের ঘর সরিয়ে নিতে তাগিদ দিলে বাগ-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মানিক শীলের মেয়ে তার জামাইয়ের মাধ্যমে বহিরাগত কিশোর গ্যাংদের খবর দেয়। দুই দফা তারা এসে হামলা চালায়। এদিকে চন্দন শীল ও অর্জুন শীলের পরিবার বাঁচতে অন্য বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কামরাঙ্গা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে বহিরাগত কিশোর গ্যাংরা তাদের উপর হামলা করে। সিএনজি ও মোটর সাইকেলে অন্তত ১৫/২০ জন এসে সবাইকে হুমকী -ধমকী দিয়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে মানিক শীলের দেখা না পেলেও কথা হয় তার মেয়ে ও পুত্রবধূদের সাথে। তারা জানান, চাচারা কিছু জায়গা পাবে। তবে বাবা মানিক শীল ঘর সরিয়ে নিতে সময় চেয়েছে। তারপরও চাচা চন্দন শীল ও অর্জুন শীলসহ পরিবারের সবাই আমাদের মারধর করে। এক পর্যায়ে শরীরের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে তারা।
বহিরাগতদের খবর দেয়ার প্রসঙ্গে মানিক শীলের মেয়ে মিতু রাণী স্বীকার করে বলেন, তার জামাইকে ফোনে মারধরের খবর জানালে, সে তাদেরকে পাঠায়। প্রথমে তিনজন এসেছে স্বীকার করলেও পরে কেউ আর আসেনি বলে দাবী তার।
এদিকে চন্দন শীলেরা কিশোর গ্যাং খবর দিয়েছে মর্মে তকমা লাগিয়ে মানিক শীলের মামলা নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ দুই ভাইকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। চন্দন শীলদের অভিযোগ পায়নি বলে দাবী করেন চাঁদপুর মডেল সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. বাহার মিয়া বলেন, বহিরাগতদের তালিকা করা হয়েয়ে। অভিযানের মাধ্যমে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।
অন্যদিকে মুঠফোনে এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার আবদুর রকিব বলেন, চন্দন শীলরা মামলা দিতে চাইলে নেয়া হবে। বহিরাগতদের কারা খবর দিয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।