চাঁদপুরের নৌ সীমানার মেঘনা নদীতে ধারালো অস্ত্রদিয়ে এমভি আল বাখেরা নামক একটি মালবাহী জাহাজের ৭ জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল রাতেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিহত ৭ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। সকালে এক এক করে মর্গে পাঠানো হয় ৭ মরদেহ।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ৬ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক ও নৌ পুলিশ সুপার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোহসীন উদ্দিন।
নিহতরা হলেন-ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার জোয়াইর এলাকার মো. কিবরিয়া (মাস্টার), একই এলাকার শেখ সবুজ (৩৫) লস্কর, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার পাঙ্গারচর এলাকার আমিনুল মুন্সী (৪০) সুকানি, একই উপজেলার লোহাগড়া এলাকার মো. সালাউদ্দিন (৪০) ইঞ্জিন চালক, মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার চরষশোমন্তপুর এলাকার মো. মাজেদুল (১৬) লস্কর, একই উপজেলার পলাশ বাড়িয়া এলাকার সজিবুল ইসলাম (২৬) লস্কর ও জাহাজের বাবুর্চি মুন্সীগঞ্জের রানা (২০)। রানা নামের একজনের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকার চেক ও নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে নগদ ১০ টাকা প্রদান করা হয়। দ্রুত মামলা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ান কথা জানান স্থানীয় প্রশাসন।
এই ঘটনায় চাঁদপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ১০ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে।
এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক ও যুগ্ম সচিবকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও দায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৌ দুর্ঘটনা রোধে করণীয় নির্ধারণ করে সুস্পষ্ট সুপারিশসহ আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।